গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক লেখালেখি নিয়ে যবিপ্রবিতে সেমিনার
সংগৃহীত
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি (এসিএস) স্টুডেন্ট চ্যাপ্টারের উদ্যোগে ‘ইনোভেটিভ রিসার্চ ফর অ্যা সাসটেইনেবল ফিউচার অ্যান্ড মাস্টারিং সাইয়েন্টিফিক রাইটিং’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গবেষণার মান, নৈতিকতা ও বৈজ্ঞানিক লেখালেখির দক্ষতা উন্নয়নকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ সেমিনারে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর বলেন, “গবেষণা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের আরো বেশি সম্পৃক্ত হতে হবে।একইসঙ্গে এসিএস স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার জাস্ট আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান তিনি। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে শুধু গবেষণার জন্য গবেষণা নয়; বরং গবেষণার ইমপ্যাক্ট বা সমাজ ও শিল্পক্ষেত্রে এর বাস্তব প্রভাব কতটা, সেটিই বেশি গুরুত্ব পায়।” তাই তরুণ গবেষকদের সমস্যা সমাধানমুখী ও ইমপ্যাক্টফুল গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডিনস কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ইঞ্জি. ইমরান খান বলেন, “আমি আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি (এসিএস) কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই যবিপ্রবিতে তাদের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু করার জন্য। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করে। আজকের সেমিনারের বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। আমি শুধু একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই—গবেষণায় নৈতিকতা। কোনো অবদান ছাড়া কাউকে অথর হিসেবে যুক্ত করা বা অন্যের কাজ নিজের নামে প্রকাশ করা সম্পূর্ণ অনৈতিক। ভালো গবেষক হতে হলে শুরু থেকেই এথিক্সের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।”
ক্লাবটির উপদেষ্টা ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জান্নাতুল কাউসার বলেন, "আজকের এই আয়োজনে উপস্থিত থাকার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের উপস্থিতি আমাদের নতুন যাত্রাকে আরো অনুপ্রাণিত করেছে। এসিএস ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার জাস্টের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের গবেষণা, বৈজ্ঞানিক লেখালেখি ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা। ভবিষ্যতেও আমরা বিভিন্ন সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও আউটরিচ কার্যক্রমের মাধ্যমে এই কাজ এগিয়ে নিতে চাই। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা বলতে চাই, তোমরা নতুন কিছু শেখা ও জানার আগ্রহ কখনো হারিয়ে ফেলো না। সবশেষে, এই আয়োজন সফল করার জন্য সকল সদস্য, শিক্ষক ও প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
বৈজ্ঞানিক লেখালেখি ও গবেষণার নৈতিকতা নিয়ে তিনি বলেন, “গবেষণায় ডাটা ম্যানিপুলেশন কোনোভাবেই কাম্য নয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা নেতিবাচক ফলাফল প্রকাশ করতে ভয় পায়, কিন্তু নেতিবাচক ফলাফলও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সততার সাথে সঠিক তথ্য ফুটিয়ে তুলতে হবে।”
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আন্নী আফরিন সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এস. এম. তারেক আবেদিন এবং যবিপ্রবির রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান কে. এম. আনিস-উল-হক। এছাড়াও, বক্তব্য দেন রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আজিজুর রহমান খান, এসিএস স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার জাস্টের সভাপতি মো. আল আমিন এবং সহ-সভাপতি এস. এইচ. এম. ইরফান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও গবেষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।