আজ তেহরানে খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে
ছবিঃ সংগৃহীত।
ইরানের রাজধানী তেহরানে চলছে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। আজ রবিবার আনুষ্ঠানিকতার তৃতীয় দিনে রাজধানীতে অভূতপূর্ব জনসমাগম হয়েছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, আজ রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় খামেনির জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই জানাজায় গ্র্যান্ড ধর্মীয় কর্তৃপক্ষদের মধ্যে কে ইমামতি করবেন, তা জানায়নি আয়োজকরা।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকে ঘিরে শুক্রবার থেকে তেহরানে নজিরবিহীন আয়োজন শুরু হয়েছে।
ইরানের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় জানাজায় পরিণত হতে পারে। এজন্য সরকারি কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রমিক সংগঠন, ত্রাণকর্মী এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে যুক্ত করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার (৩ জুন) তেহরানে শুরু হয় খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। এদিন গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে রাখা হয় খামেনির কফিন। সেখানে কূটনীতিক ও বিদেশি অতিথিরা শ্রদ্ধা জানান। শনিবার জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের গ্র্যান্ড মোসাল্লার সব দরজা খুলে দেওয়া হয়।
রবিবার তেহরানে জানাজা শেষে সোমবার রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোয় অনুষ্ঠিত হবে বিশাল শোকযাত্রা। পরদিন মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র নগরী কোমে। বুধবার কর্মসূচি সীমান্ত পেরিয়ে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় পৌঁছাবে। এরপর বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে তাকে দাফন করা হবে।
গতকাল শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, শহীদ সর্বোচ্চ নেতাকে সম্মান জানাতে বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। এটি ইরানের জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক। অনুষ্ঠানে ‘বিশ্বস্ত আরব ভাইদের’ উপস্থিতির কথাও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
আব্বাস আরাঘচির ভাষায়, ‘এই ঐতিহাসিক স্মরণসভা পারস্পরিক সম্পর্কের ইতিহাসে একটি চিরস্থায়ী স্মৃতি হয়ে থাকবে।’