ফিলিস্তিনি বন্দিদের অনাহারে রাখা নিয়ে ইসরাইলি মন্ত্রীর দম্ভ
নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির
ইসরাইলের কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের অনাহারে রাখার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন দেশটির উগ্র ডানপন্থী ধর্মীয় নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির। যা ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইল সরকার ও প্রশাসনের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, নতুন এক ভিডিওতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের অনাহারে রাখা নিয়ে কথা বলেন বেন-গভির। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা গেছে, ‘তারা চেয়েছিল আমি যেন ওই সন্ত্রাসীদের স্যান্ডউইচ দিই। আগে তারা মোটা হয়ে বের হতো, এখন মোটা হয়ে ঢোকে আর চিকন হয়ে বের হয়। সন্ত্রাসীদের এভাবেই বের হওয়া উচিত।’
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ভিডিওটি প্রকাশ করেন বেন-গভির। তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এর আগে ইসরাইলের হেফাজতে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং গাজা অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক নৌবহরে থাকা বিদেশি কর্মীদের আটক ও নির্যাতনের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছে।
এদিকে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বেন-গভির জানান, ইসরাইল সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের জন্য ৫০ কোটি শেকেল বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থ দিয়ে আরব সমাজে অপরাধ দমনের লক্ষ্যে সংস্থাটির একটি বিশেষ বিভাগ গঠন করা হবে।
তবে বেন-গভিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইসরাইলের কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৩ ফিলিস্তিনি নিহত
এদিকে যুদ্ধবিরতি লঙঘন করে গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। আজ মঙ্গলবার ইসরাইলি হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
স্বাস্থ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় এক ব্যক্তি নিহত এবং দুই শিশু আহত হয়। এছাড়া খান ইউনিসে পৃথক আরেকটি হামলায় আরও একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে গাজা সিটির কাছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত তাঁবুতে হামলা চালানো হলে একজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হন। হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিমান ও গোলাবর্ষণের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।