তাইওয়ান সীমান্তে চীনের যুদ্ধবিমান ও নৌযান শনাক্ত
প্রতীকী ছবি
তাইওয়ান সীমান্তে বেইজিংয়ের সামরিক চাপ আরো তীব্র রূপ নিয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমএনডি) এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় তাইওয়ানের চারপাশে চীনের ২টি সামরিক বিমান, ৫টি নৌযান ও ৩টি সরকারি জাহাজের গতিবিধি রেকর্ড করা হয়েছে।
পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) এই কার্যক্রমের ওপর কড়া নজরদারি রাখতে তাইওয়ান তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নৌবাহিনীর জাহাজ ও অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রস্তুত করেছে।
তাইওয়ান মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মাসেই বেইজিংয়ের উসকানি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ১ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত তাইওয়ান কর্তৃপক্ষ মোট ৯১ বার চীনা সামরিক বিমান এবং ১১০ বার যুদ্ধজাহাজের অনুপ্রবেশ ট্র্যাক করেছে।
এর আগে গত ৩ জুলাই তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিশেষ বার্তা দেয় চীন।
বেইজিং আশা প্রকাশ করে যে, ওয়াশিংটন তাইওয়ান-সম্পর্কিত সংবেদনশীল বিষয়গুলো অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও সতর্কতার সাথে সামলাবে; কারণ এর একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে।
এদিকে, ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহুং জানিয়েছেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি এক দ্বিপাক্ষিক কথোপকথনে অংশ নেন। সেখানে ওয়াং ই দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যকার বিদ্যমান বিঘ্ন দূর করা, দ্বিপাক্ষিক বাধাগুলো অতিক্রম করা এবং সঠিক পথে দৃঢ়ভাবে অবিচল থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তাইওয়ানের ওপর চীনের মালিকানার দাবিটি দীর্ঘদিনের একটি জটিল রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিষয়।
বেইজিং মনে করে তাইওয়ান চীনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৬৮৩ সালে চিং রাজবংশ কর্তৃক এই দ্বীপটি দখলের ইতিহাস টেনে চীন আন্তর্জাতিকভাবে এই দাবি করে থাকে। অন্যদিকে, তাইওয়ান সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজস্ব সরকার, সামরিক বাহিনী ও অর্থনীতি পরিচালনা করে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রেখেছে। আন্তর্জাতিক আইনে তাইওয়ানের এই সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক বিতর্ক চলছে।