কঙ্গোয় নতুন এলাকায় ছড়াচ্ছে ইবোলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০০

কঙ্গোয় নতুন এলাকায় ছড়াচ্ছে ইবোলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০০

ছবি ; রয়র্টাস

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সাথে দেশটিতে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সর্বশেষ প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০০ জনে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কঙ্গো সরকার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাসের মূল কেন্দ্রস্থল ইতুরি প্রদেশের বাইরে এবার নতুন করে তশোপো ও ওত-উয়েলে প্রদেশেও সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে তশোপো প্রদেশের কিসাঙ্গানিতে দুইটি নতুন সংক্রমণের ঘটনা সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে ওত-উয়েলে প্রদেশে ঠিক কতজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তা স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দিষ্ট করে জানাননি।

কঙ্গো সরকারের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে মোট নিশ্চিত ইবোলা সংক্রমণের সংখ্যা ১,৭৫৯ জনে পৌঁছেছে।

তশোপো প্রদেশে শনাক্ত হওয়া দুই সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে একজন ইতুরি প্রদেশের নিয়া-নিয়া স্বাস্থ্য অঞ্চলের সাথে সম্পর্কিত, যেখানে প্রথম এই প্রাদুর্ভাবের ঘটনাগুলো সামনে এসেছিল। তবে অন্য রোগীর ক্ষেত্রে পূর্বের কোনো প্রাদুর্ভাব বা আক্রান্ত এলাকার সাথে স্পষ্ট কোনো ভৌগোলিক সংযোগ পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (আফ্রিকা সিডিসি) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাবটি মহাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ইবোলা প্রাদুর্ভাব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে কর্তৃপক্ষের নজরদারির আড়ালে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার পর, গত ১৫ মে কঙ্গো সরকার নতুন করে এই প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই সংক্রমণটি বিরল ‘বান্ডিবুগিও’ ভাইরাসের কারণে ঘটেছে, যার কোনো অনুমোদিত টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ও প্রতিষেধক খোঁজার আশায় গবেষকদের বহু প্রতীক্ষিত একটি গবেষণার পর, গত সপ্তাহ থেকে এর চিকিৎসার জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল (মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ) শুরু হয়েছে।

তবে কঙ্গোতে ইবোলা নিয়ন্ত্রণের এই প্রচেষ্টা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

একদিকে তহবিলের তীব্র ঘাটতি, অন্যদিকে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় সংঘাতময় এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর দ্বারা বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা সেখানে পুরোপুরি কাজ করতে পারছেন না।