পশ্চিম তীরে মার্কিন আইনপ্রণেতাকে আটক করে সশস্ত্র ইসরায়েলিরা
ছবি: ফাইল ফটো
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে সফরে গিয়ে অস্ত্রধারী ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হাতে অবরুদ্ধ হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আইনপ্রণেতা রো খান্না। ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বি তিনি।
বৃহস্পতিবার একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খান্না বলেন, বুধবার দক্ষিণ পশ্চিম তীরের খিরবেত জানুতা নামক এলাকা পরিদর্শনের সময় তাদের গাড়িবহর আটকে রাস্তা অবরোধ করেন মার্কিন-নির্মিত এম৪ রাইফেলধারী বসতি স্থাপনকারীরা। পরে তারা প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) খবর দেয়।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি খান্না বলেন, ‘আমরা এমন একটি গ্রামে ছিলাম যা ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ধ্বংস করে দিয়েছিল, তারা স্কুলটি ধ্বংস করে দিয়েছিল, তারা ওই গ্রামটি ধ্বংস করে দিয়েছিল, আর আমরা শুধু তা দেখছিলাম। আর এই গুণ্ডারা (বসতি স্থাপনকারীরা) মেশিনগান নিয়ে আসে– এম৪, একটি আমেরিকান মেশিনগান এবং আমাদের আটক করে। তারা রাস্তা অবরোধ করে। এরপর তারা আইডিএফকে ফোন করে এবং আইডিএফ তাদের পক্ষেই থাকে, আমেরিকানদের পক্ষে নয়।’
এই অভিজ্ঞতার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, একজন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য এই পরিস্থিতির শিকার হয়ে ক্ষমতাহীন বোধ করলে, ফিলিস্তিনিদের প্রতিদিনের অবস্থা কেমন হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
খান্নার সঙ্গে থাকা তার সহযোগী ক্যামেরন কাস্কি বলেন, তাদের এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছিল এবং পরে তারা সাহায্যের জন্য জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে আবেদন জানিয়েছিলেন। অবশেষে পুলিশ বলে মনে হওয়া একদল কর্মকর্তা হস্তক্ষেপ করলে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ইসরায়েলের ওপর হামাসের হামলার পর বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস অভিযানে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া ছোট্ট ফিলিস্তিনি গ্রাম খিরবেত জানুতার কাছে বসতি স্থাপনকারীরা যানবাহন চলাচল আটকে দিয়েছে, এমন খবর পাওয়ার পর সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ করেন।
সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, ‘সেখানে পৌঁছে সৈন্যরা ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং যানবাহনগুলোকে তাদের পথে চলতে অনুমতি দেয়’।
প্রসঙ্গত, অধিকৃত পশ্চিম তীরের খিরবেত জানুতা এবং এর আশেপাশের মাসাফের ইয়াত্তা অঞ্চলে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা রেকর্ড মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও জমি দখল করা।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী অফিস (ওসিএইচএ) এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নিকটবর্তী অবৈধ বসতি 'মেইতারিম ফার্ম'-এর ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের ধারাবাহিক সশস্ত্র হামলায় খিরবেত জানুতা গ্রামটি এখন সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দখলদার সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তারা ফিলিস্তিনিদের তাঁবু ও ঘরবাড়িতে আগুন দিচ্ছে, সোলার প্যানেল ভাঙচুর করছে, পানির ট্যাংক খালি করছে এবং কৃষিজমিতে পয়ঃনিষ্কাশনের বর্জ্য ফেলে তা চাষের অনুপযোগী করে তুলেছে।
২০২৪ এবং ২০২৫ সালে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের এই গ্রামে ফিরে আসার এবং তাদের সুরক্ষার নির্দেশ দিলেও ইসরায়েলি বাহিনী তা কার্যকর করেনি।
সূত্র: রয়টার্স