স্পেনে দাবানলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩, ঘরছাড়া হাজারো মানুষ

স্পেনে দাবানলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩, ঘরছাড়া হাজারো মানুষ

সংগৃহীত

স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় আলমেরিয়া প্রদেশে ভয়াবহ দাবানলে আহত এক ব্রিটিশ নারীর মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এ দাবানলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে। 

রোববার ( ১২ জুলাই) রাতে আন্দালুসিয়া আঞ্চলিক সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।

নিহত ওই নারীর বয়স ৯৩ বছর। আঞ্চলিক সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, আগে থেকেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন ওই নারী। শুক্রবার ভোরে শরীরের প্রায় ২০ শতাংশ অংশ দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

আন্দালুসিয়ার জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রধান আন্তোনিও সান্স নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্পেনের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এ দাবানলে লস গাইয়ারদোস পৌর এলাকায় ৭ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে।

এদিকে স্পেনের ফরেনসিক সংস্থা সিআইডি জানিয়েছে, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও বেলজিয়ামের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করার পর আরও দুজন নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে। এতে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত স্বজনদের নিজ নিজ দেশে নিখোঁজের তথ্য ও ডিএনএ নমুনা জমা দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে আরও নিখোঁজের খবর আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বেলজিয়াম সরকার জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন বেলজিয়ামের নাগরিক থাকতে পারেন। তাদের একজন ৬৩ বছর বয়সি ব্যবসায়ী স্তানিসলাস ভারদঙ্কট। তার ছেলে, ভাইরোলজিস্ট থমাস-উলফ ভারদঙ্কট জানান, আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগে পর্যন্ত বাবার সঙ্গে তার ফোনে যোগাযোগ ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় বাসিন্দারা কোনো আগাম সতর্কবার্তা পাননি। তবে আন্দালুসিয়া সরকার দাবি করেছে, স্থানীয় মেয়র বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

রোববার দুপুরে আন্দালুসিয়ার প্রেসিডেন্ট জুয়ানমা মোরেনো জানান, দাবানল নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং এর বিস্তার ঠেকানো গেছে। পরে লস গাইয়ারদোসের উত্তরের বিভিন্ন গ্রাম থেকে সরিয়ে নেওয়া এক হাজারের বেশি বাসিন্দাকে বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়।