দেরিতে খাচ্ছেন রাতের খাবার? পড়তে পারেন যেসব বিপদে

দেরিতে খাচ্ছেন রাতের খাবার? পড়তে পারেন যেসব বিপদে

ফাইল ছবি

কী খাচ্ছেন, কত ক্যালোরি গ্রহণ করছেন বা খাদ্যতালিকায় প্রোটিন-কার্বোহাইড্রেটের ভারসাম্য কেমন—এসব বিষয়ে সচেতন থাকেন অনেকেই। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কখন খাবার খাচ্ছেন, সেটিও সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা বলছে, খাবারের সময় শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম), রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং হরমোনের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

পুষ্টিবিদদের মতে, মানুষের শরীর সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবিক ঘড়ির নিয়মে পরিচালিত হয়। এই ছন্দ শুধু ঘুম নয়, বরং ইনসুলিনের কার্যকারিতা, হজম, অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং কর্টিসল হরমোনের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে। সকালে শরীর খাবার গ্রহণ ও হজমের জন্য সবচেয়ে প্রস্তুত থাকে। এ সময় ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বেশি থাকায় রক্তে শর্করা সহজে নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং খাবার দ্রুত হজম হয়।

অন্যদিকে সন্ধ্যার পর শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে আসে। ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায় এবং পাকস্থলীও ধীরে খাবার হজম করে। ফলে রাতে দেরি করে ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধি, রক্তে শর্করার ওঠানামা এবং বিপাকজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যস্ত কর্মজীবন, যানজট ও দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে অনেকেই রাত ৯টা বা ১০টার পর রাতের খাবার খান। এরপর অতিরিক্ত ভাত, ফাস্টফুড, কোমল পানীয় বা মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

তবে জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন না এনে ছোট কিছু অভ্যাস গড়ে তুললেও উপকার মিলতে পারে। যেমন সপ্তাহে অন্তত কয়েক দিন রাত ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করার চেষ্টা করা। রাতের খাবারে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কোনো কারণে দেরিতে খেতে হলে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে সুষম খাবার বেছে নেওয়া ভালো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার শুধু শক্তির উৎস নয়, এটি শরীরের জন্য একটি জৈবিক সংকেতও। তাই শরীরের প্রাকৃতিক জৈবিক ছন্দের সঙ্গে মিল রেখে খাবার গ্রহণ করলে বিপাকক্রিয়া সুস্থ রাখা সহজ হয়। তবে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।