ঋণের চাপ ও জলবায়ু সংকটে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন হুমকিতে
ছবি: সংগৃহীত
ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা, কমে আসা সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) এবং সাশ্রয়ী অর্থায়নের সীমিত সুযোগের কারণে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও শক্তিশালী সহযোগিতা ছাড়া ২০৩০ সালের উন্নয়ন এজেন্ডা এবং দোহা কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছে এলডিসি গ্রুপ।
সোমবার (১৩ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সাধারণ পরিষদ হলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চ পর্যায়ের অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা তুলে ধরা হয়। বক্তব্যটি উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
বক্তব্যে বলা হয়, ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নির্ধারিত সময়সীমা যতই ঘনিয়ে আসছে, বৈশ্বিক অগ্রগতি ততই উদ্বেগজনকভাবে পিছিয়ে পড়ছে। আর স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি আরও বেশি সংকটজনক। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ঋণের বাড়তি চাপ, সীমিত আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত বৈষম্য এলডিসিগুলোর উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এতে আরও বলা হয়, এসব চ্যালেঞ্জ শুধু এসডিজি বাস্তবায়নকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, একই সঙ্গে দোহা কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে আরও বেশি সংখ্যক এলডিসিকে টেকসই ও স্থায়ীভাবে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণে সহায়তার লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, বর্তমানে ১৪টি স্বল্পোন্নত দেশ বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং অন্যান্য বহিরাগত অভিঘাতের কারণে এসব দেশের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সহায়তার প্রয়োজনীয়তা এখনও রয়ে গেছে।
এলডিসি গ্রুপের পক্ষ থেকে মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় দোহা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সহনশীলতা জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বর্তমান সংকট আন্তর্জাতিক সংহতি এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতার একটি বড় পরীক্ষা। এলডিসি গ্রুপ সব অংশীদারের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে, যাতে দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা নতুন গতি সৃষ্টি করতে পারে, পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন করতে পারে এবং কাউকে পিছিয়ে না রেখে টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে পারে।
আগামী বছর কাতারের দোহায় অনুষ্ঠেয় দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা বৈশ্বিক অংশীদারত্ব জোরদার এবং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বলেও উল্লেখ করা হয়। এই পর্যালোচনা বৈঠকে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এলডিসি গ্রুপ।