রাজস্বে ৯৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি নিয়ে বছর পার এনবিআরের
ছবি: সংগৃহীত
সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংশোধিত বাজেটে এনবিআরের জন্য পাঁচ লাখ তিন হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় করতে পারা গেছে চার লাখ ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সংস্থাটি পিছিয়ে রয়েছে প্রায় ৯২ হাজার ৬১০ কোটি টাকা।
রোববার (১২ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এনবিআর রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে থাকলেও গত অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ১১ শতাংশ বা ৪০ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এনবিআর তিন লাখ ৬৯ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করেছিল।
এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী আয়কর খাতে এক লাখ ৮৬ হাজার ১১০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে এক লাখ ৪২ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৭৬ দশমিক ৭ শতাংশ। আর ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন করে এক লাখ ৮৬ হাজার ১১০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা বা লক্ষ্যমাত্রার ৮৩ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে শুল্ক খাতে এক লাখ ৩০ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে এক লাখ ১১ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৮৫ শতাংশের বেশি।
এর আগে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের ৮৮ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য ঘাটতির কথা জানিয়েছিল এনবিআর। অর্থবছর শেষে মোট রাজস্ব আদায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা হবে বলে মনে করেছে এনবিআর। তবে বাস্তবে আরও বেশি ঘাটতি হলো।
এনবিআরের সূত্রে পাওয়া তথ্যানুসারে, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে অর্থাৎ মে ২০২৬ পর্যন্ত এনবিআরের মোট রাজস্ব আদায় হয় ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ২ শতাংশ। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। তবে রেকর্ড পরিমাণ আদায় হলেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারিনি এনবিআর।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা, যা পরে সংশোধন করে পাঁচ লাখ তিন কোটি টাকা করা হয়। বিশাল এই ঘাটতির মধ্যেও সরকার নতুন অর্থবছরে এনবিআরের জন্য ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।