সেমিফাইনালের আগে মেসির ‘বিদায়ী বার্তা’

সেমিফাইনালের আগে মেসির ‘বিদায়ী বার্তা’

লিওনেল মেসি

বিশ্বকাপের শুরু থেকে যে শহরটি আর্জেন্টিনার স্বপ্নযাত্রার নীরব সঙ্গী ছিল, সেমিফাইনালের আগে সেই শহরকেই বিদায় জানালেন লিওনেল মেসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় কানসাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

বিশ্বকাপ শুরুর প্রায় ১৫ দিন আগে কানসাসে নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করেছিল লিওনেল স্কালোনির দল। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে এই শহরের অনুশীলন কেন্দ্র থেকেই ম্যাচ খেলতে যাওয়া, আবার ফিরে এসে পরবর্তী লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া-সব মিলিয়ে কানসাস যেন হয়ে উঠেছিল ‘ছোট্ট আর্জেন্টিনা’।

সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনে শেষ অনুশীলনের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে মেসি লিখেছেন, ‘কানসাসে শেষ দিন। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ!’ একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন দলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় লিসান্দ্রো মার্টিনেজও। তিনি লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ কানসাস! আমাদের যাত্রা এখনও শেষ হয়নি।’

কানসাসে শেষ অনুশীলনের পর নিজেদের ঐতিহ্যবাহী বিদায়ী বারবিকিউ অনুষ্ঠানে অংশ নেয় পুরো দল। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপের বেসক্যাম্প ছেড়ে দেয় আর্জেন্টিনা। এখন তাদের সব মনোযোগ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে।

দিবাগত রাতে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হবে ফাইনালে ওঠার সেই মহারণ। এই ম্যাচের পর আর কানসাসে ফিরবে না আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালের ফলই ঠিক করে দেবে তাদের পরবর্তী গন্তব্য।

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে পারলে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে দলটি যাবে নিউ জার্সিতে। আর সেমিফাইনালে হেরে গেলে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের জন্য যেতে হবে মায়ামিতে।

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযানে কানসাস ছিল কেবল একটি অনুশীলন কেন্দ্র নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও প্রস্তুতির ঠিকানা। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচের আগে ও পরে এই শহরেই ফিরে এসেছে স্কালোনির শিষ্যরা। তবে নকআউট পর্বে সূচির কারণে সেই রুটিনে পরিবর্তন আসে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের পর দলটি মায়ামিতে অবস্থান করে, পরে মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াই খেলতে যায় আটলান্টায়। সেই ম্যাচ শেষে শেষবারের মতো কানসাসে ফিরে এলেও এবার চিরবিদায় জানিয়ে নতুন গন্তব্যে পা রাখল আলবিসেলেস্তেরা।

মেসি ও লিসান্দ্রোর সংক্ষিপ্ত বিদায়ী বার্তা তাই শুধু একটি শহরকে ধন্যবাদ জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি এমন এক অধ্যায়ের সমাপ্তি, যেখানে কানসাস আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্বপ্নের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ছিল। এখন সেই স্বপ্ন পূরণের আর মাত্র দুটি ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।