ঢাবির মাঠে মাছ ছেড়ে ডাকসুর প্রতীকী প্রতিবাদ
সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও সংস্কারের দাবিতে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। মাঠে জমে থাকা পানিতে দেশীয় প্রজাতির মাছ অবমুক্ত করে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা ৩টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে জমে থাকা পানিতে কৈ ও মাগুর মাছ অবমুক্ত করে এ কর্মসূচি পালন করে ডাকসু।
ডাকসুর অভিযোগ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে মাঠ সংস্কারের জন্য ২ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং একটি কমিটি গঠন করা হলেও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা ও অবহেলার কারণে সংস্কারকাজে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন বলেন, “ডাকসু নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কার ছিল তার অন্যতম অঙ্গীকার। প্রশাসনের বাজেট সংকটের কথা জানার পর বিসিবি থেকে ২ কোটি টাকার বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয় এবং গত ১০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মাঠ সংস্কারের কাজ শুরু হয়নি।”
তিনি অভিযোগ করেন, “মাঠ সংস্কারের বিষয়ে প্রশাসন বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে। মাঠের পানি সুয়ারেজ ও ওয়াশরুমের পানির সঙ্গে মিশে দূষিত হয়ে পড়ছে। ফলে পানি নেমে যাওয়ার পরও মাঠ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে থাকে।”
মাছ অবমুক্ত করার কারণ ব্যাখ্যা করে আরমান হোসেন বলেন, “মাঠটি এখন কার্যত পুকুরে পরিণত হয়েছে। তাই প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে আমরা মাছ ছেড়েছি। প্রশাসন যদি মাঠ সংস্কার করতে না পারে, তাহলে আমরা মাছ চাষ করেই সংস্কারের টাকা জোগাড় করব।”
এদিকে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন, “বিসিবির ২ কোটি টাকার বাজেট নিশ্চিত করার পরও মাঠ সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে এবং জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে। এই বাস্তবতাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরতেই মাছ অবমুক্ত করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।”
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমাসহ বিভিন্ন হলের ভিপি, জিএস ও এজিএসরা উপস্থিত ছিলেন।
ডাকসুর পক্ষ থেকে দ্রুত মাঠ সংস্কারের কাজ শুরু করার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র ও ট্রেজারার অফিস ঘেরাওসহ আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়।