শিশুদের সাথে যৌন নির্যাতন করা ডে কেয়ার কর্মীর পরিচয় প্রকাশ করল অস্ট্রেলিয়া

শিশুদের সাথে যৌন নির্যাতন করা ডে কেয়ার কর্মীর পরিচয় প্রকাশ করল অস্ট্রেলিয়া

ছবিঃ সংগৃহীত।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বহু শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ৩২৯টি মামলার মুখোমুখি হওয়া এক ডে কেয়ার কর্মীর পরিচয় প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

পরিচর্যাকর্মী হ্যামিশ টেইটের বিরুদ্ধে ১৬ বছর ধরে বিভিন্ন ডে কেয়ার কেন্দ্রে ১৩৬ শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে মোট ৩২৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের গোপনীয়তা আদেশ প্রত্যাহারের পর সোমবার এই পরিচর্যাকর্মীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়।

৩৫ বছর বয়সী টেইটকে গত বছরের জুলাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তিনি এখনো পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের সামগ্রী তৈরির ১৬২টি এবং অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত কার্যকলাপের ভিডিও ধারণের ৮১টি অভিযোগসহ আরো নানা অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা এ পর্যন্ত ১২১টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এখনো ২২ জন সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের (এএফপি) ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার লিউক নিডহ্যাম বলেন, ‘শিশুদের প্রতি যেকোনো ধরনের যৌন নির্যাতনই অত্যন্ত মর্মান্তিক ও জঘন্য। এমন অভিযোগ যখন এমন একজনের বিরুদ্ধে ওঠে, যার দায়িত্ব ছিল শিশুদের দেখভাল করা, তখন তা আরো উদ্বেগজনক।’

পুলিশ জানিয়েছে, হ্যামিশ টেইট ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সিডনির ৬২টি শিশুশিক্ষা ও পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন বা সেখানে যাতায়াত করেছেন। তবে তিনি মূলত শহরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে কর্মরত ছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুদের প্রতি নির্যাতনের ঘটনাগুলো চারটি শিশু পরিচর্যাকেন্দ্র এবং টেইটের নিজস্ব একটি ব্যক্তিগত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ মোট পাঁচটি স্থানে ঘটেছে। পুলিশ একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করেছে, যেখানে টেইট যে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে কাজ করতেন সেগুলোর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

টেইটের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য শিশু নির্যাতনের সামগ্রী তৈরি করেছেন। এ ধরনের ২২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে যৌনভাবে স্পর্শ করার ১৮টি অভিযোগও রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত বছরের জুনে তারা প্রথম টেইটকে অবৈধ অনলাইন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে। পরে সিডনির বাইরে গ্লেনোরি এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে শিশু নির্যাতনমূলক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার ডে কেয়ার কেন্দ্রগুলোতে শিশু নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ দেশজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

এর মধ্যে অন্যতম অ্যাশলি পল গ্রিফিথের মামলা। তিনি ২০২৪ সালে কুইন্সল্যান্ড ও বিদেশের শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে ২০ বছর ধরে সংঘটিত ৩০৭টি অপরাধের কথা স্বীকার করেন। এ ছাড়া গত বছর জোশুয়া ডেল ব্রাউনের বিরুদ্ধে চারটি ডে কেয়ার কেন্দ্রে শিশু নির্যাতনের বহু অভিযোগ আনা হয়। এরপর পুলিশ ভিক্টোরিয়ার এক হাজার ২০০-র বেশি শিশুর যৌনবাহিত রোগ পরীক্ষা করার আহ্বান জানায়।