পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় ৩ পুলিশ সদস্য নিহত, আহত ৩৪

পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় ৩ পুলিশ সদস্য নিহত, আহত ৩৪

সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পৃথক দুটি সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত তিন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৩৪ জন।

বুধবার (১৫ জুলাই) সংঘটিত এসব হামলায় একটি পুলিশ কনভয় ও একটি পুলিশ স্টেশনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

 

 পুলিশ জানায়, লোয়ার দির জেলার হায়দার এলাকার লাদাম টপের কাছে একটি পুলিশ কনভয় যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা প্রথমে হ্যান্ড গ্রেনেড ছোড়ে এবং পরে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং আরো ১৯ জন আহত হন।

হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আরো বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

এদিকে, একই প্রদেশের বান্নু জেলার মিরিয়ান পুলিশ স্টেশনেও আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা চালায় সন্ত্রাসীরা। নিরাপত্তা বাহিনী বিস্ফোরকবোঝাই একটি যানবাহন লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই গুলি চালিয়ে সেটি ধ্বংস করে দেয়।

পরে বন্দুকযুদ্ধে চার হামলাকারী নিহত হয়।

এ ঘটনায় ১৫ পুলিশ সদস্য আহত হন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পেশোয়ারে পাঠানো হয়েছে।

 

বান্নু জেলার পুলিশ কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন (অব.) মুহাম্মদ ফুরকান বিলাল হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং হতাহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারীরা বিস্ফোরকবোঝাই গাড়িটি পুলিশ স্টেশনের ভেতরে ঢুকিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করেছিল। তবে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত প্রতিরোধে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

পরে হামলাকারীরা পুলিশ স্টেশনে প্রবেশের চেষ্টা করলেও তাদের প্রতিহত করা হয়।

 

ঘটনার পর পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং হতাহত, ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য তথ্য যাচাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বান্নুর ডোমেল পুলিশ স্টেশনে এক আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় অন্তত পাঁচ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং একজন পুলিশ সদস্যসহ আরো ১৩ জন আহত হয়েছিলেন।

সূত্র : দ্য হিন্দু