কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে নিখোঁজ ডুবুরির মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি
নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফায়ার সার্ভিসের জেটিতে আটকে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি মো. সাদিকের (৩৫) মরদেহ প্রায় ৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় শীতলক্ষ্যা নদীর নিতাইগঞ্জের কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মো. সাদিক রাজবাড়ী জেলার কুমড়াকান্দি এলাকার আশরাফ শেখের ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একজন অভিজ্ঞ ডুবুরি সদস্য ছিলেন। সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় পদক লাভ করেছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের জেটিতে জমে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কার করার সময় তিনি পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নদীর বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও বিকেল পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে সন্ধ্যায় নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের নারায়ণগঞ্জের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, ফায়ার সার্ভিসের জেটিতে জমে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কার করতে মো. সাদিক, সামসুল ও স্পিডবোটচালক সজল লাঠি ও ছুরি ব্যবহার করছিলেন। এ সময় হঠাৎ সাদিক স্পিডবোট থেকে শীতলক্ষ্যা নদীতে পড়ে তলিয়ে যান।
তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, স্পিডবোট থেকে পড়ে যাওয়ার সময় তার মাথা বা শরীরের অন্য কোনো অংশে আঘাত লাগে। ফলে তিনি দ্রুত পানির নিচে তলিয়ে যান। ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড এবং বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দলের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।
আব্দুল্লাহ আল আরেফিন আরও বলেন, সাদিক একজন দক্ষ, সাহসী ও দায়িত্বশীল ডুবুরি ছিলেন। বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানে অসামান্য সাহসিকতা ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় পদক অর্জন করেছিলেন।