কাস্টমস সার্ভার হ্যাকের অভিযোগে আরও এক আসামি গ্রেফতার
প্রতিকি ছবি
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সার্ভার হ্যাক করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মদ ও সিগারেট খালাসের চেষ্টা ঘটনায় সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শেখ সেজান নামে আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার(১৫ জানুয়ারি) নেপালে পালিয়ে যাওয়ার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ।
তবে শুক্রবার(১৭ জুলাই) সংবাদ সম্মেলন করে গ্রেফতারের বিষয়টি সিএমপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, এ চক্রের সদস্যরা চীন থেকে বন্ড সুবিধায় ভুয়া ঘোষণা দিয়ে এক কন্টেইনারে ১১হাজার ৬৭৬লিটার বিদেশি মদ এবং আরেকটি কনটেইনারে ৫০ লাখ শলাকা বিদেশি সিগারেট আমদানি করে। তারা ক্রটি জাল ঋণপত্র (এলসি) তৈরি করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম হ্যাক করে কন্টেইনার খালাসের চেষ্টা করে। এতে সরকারের অন্তত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শেখ সেজান কাস্টমস ও বন্দরের সার্ভারে অবৈধ অনুপ্রবেশ, অন্যের ব্যবহারকারী পরিচিতি ব্যবহার, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং প্রতারণামূলক কাস্টমস কার্যক্রমে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, তদন্তে পাওয়া ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণে দেখা যায়- ২০২৪ সালের ২০ মে একটি মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে কাস্টমসের এক কর্মকর্তার ব্যবহারকারী পরিচিতিতে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করা হয়। পরে একই পরিচিতি ব্যবহার করে বিদেশি সিগারেট আমদানির ঋণপত্র নিবন্ধন ও চালুর কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
পুলিশ জানায়, শেখ সেজানের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন জনসেবামূলক ওয়েবসাইটের নকল সংস্করণ তৈরি, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, টিকা সনদসহ বিভিন্ন সরকারি ডিজিটাল সেবা জালিয়াতির অভিযোগে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় সাইবার অপরাধ ও প্রতারণার সাতটি মামলা রয়েছে।
এর আগে এ ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান হাফেজ ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান খালেদ হোসেন মামুন, পরিচালক বাকির হোসেন, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী খোরশেদ আলম রিপন ও মিজান এবং চক্রের সদস্য আশরাফ হোসেন রাজু, খায়েজ আহমেদ ওরফে আরিফ এবং বড় রাজুসহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।