প্রবাসী শিক্ষক-গবেষকদের সম্পৃক্ত করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ছে ইউজিসি
ছবি: ফাইল ফটো
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষক-গবেষকদের দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষক-গবেষকরা ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান, গবেষণা তত্ত্বাবধান এবং জ্ঞান বিনিময় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।
একই সঙ্গে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট, স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল লাইব্রেরি ও আন্তর্জাতিক গবেষণা ডাটাবেজে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে কমিশন।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বিডিরেন–ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস কোলাবোরেশন: পাথওয়েজ টুওয়ার্ডস গ্লোবাল নলেজ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব তথ্য জানান।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ডিজিটাল রূপান্তরের কোনো বিকল্প নেই। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষক-গবেষকদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও গবেষণা সক্ষমতাকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য একটি আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান, গবেষণা ও শিক্ষাদানের সুযোগ আরও সহজে লাভ করবে।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, উচ্চশিক্ষায় শিখন ঘাটতি কমানো এবং শিক্ষা ও গবেষণায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ, ক্যাম্পাসজুড়ে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই, স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল লাইব্রেরি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা ডাটাবেজ ও ই-রিসোর্সে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কমিশন।
তিনি বলেন, ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্দেশ্য শুধু প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকের জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। রাজধানী কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যেন শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য না থাকে, সেই লক্ষ্য নিয়েই ইউজিসি কাজ করছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন), ইউজিসি এবং হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্প যৌথভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে। এর আওতায় দেশের ১৮০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ধাপে ধাপে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষক-গবেষকরা অনলাইনে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস নিতে পারবেন, গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণাকাজে তত্ত্বাবধান করতে পারবেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষকরাও ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন।
অধ্যাপক মামুন বলেন, নতুন ও প্রান্তিক অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা জার্নাল, ডিজিটাল বই, ই-রিসোর্স এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক গবেষণা ডাটাবেজে সহজে প্রবেশাধিকার পাবেন। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা বাড়াতে এবং যৌথ গবেষণা পরিচালনায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তিনি জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডিজিটাল লাইব্রেরি সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করা হবে। আন্তর্জাতিক মানের বই, গবেষণা জার্নাল এবং বিভিন্ন স্বীকৃত গবেষণা ডাটাবেজে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের জ্ঞানভাণ্ডার ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যাতে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকে, সে জন্য একটি টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জ্ঞান ও গবেষণার বৈষম্য কমবে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের উচ্চশিক্ষা আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে ইউজিসির আইসিটি বিভাগের পরিচালক মো. ওমর ফারুক, হিট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেসের ন্যাশনাল হেড দেব্রতম ভট্টাচার্য এবং হেড অব পাবলিশিং কুদসিয়া আহমেদ বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ, গবেষণার মানোন্নয়ন এবং বৈশ্বিক জ্ঞানভাণ্ডারে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণে ডিজিটাল সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হতে পারবে এবং দেশের উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।