ইরাক-জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটির কাছে বিকট বিস্ফোরণ
সংগৃহীত
ইরাক-জর্ডানে মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে নতুন করে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে দুই পক্ষের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল শহর অন্তত ছয়টি বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। একই সময়ে সেখানে স্থাপিত মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে দেখা যায়।
অন্যদিকে জর্ডানের পূর্বাঞ্চলেও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে, যা মার্কিন সেনা বহনকারী ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করে চালানো হয়েছে বলে ইরানের স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। জর্ডানের 'মুম্বাফাক সালতি' বিমান ঘাঁটির অভ্যন্তরে একটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, শত্রুভাবাপন্ন আগ্রাসনের জবাবে তাদের 'অপারেশন নাসর ২'-এর ২৫তম তরঙ্গের অংশ হিসেবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পুনরায় হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, প্রাথমিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিংস ফয়সাল ও প্রিন্স হাসান ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে এফ-১৫ বিমান সাজানোর একটি স্থাপনা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পাশাপাশি মোতায়েনের অপেক্ষায় থাকা কন্টেইনারে রাখা আটটি নতুন এমকিউ-৯ ড্রোন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দুটি ড্রোন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া মার্কিন হেলিকপ্টার সংরক্ষণাগারে পরবর্তী হামলায় দুটি ভারী মার্কিন হেলিকপ্টারের ব্যাপক ক্ষতি সাধন এবং বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মী হতাহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে তেহরান।
এরই মধ্যে নতুন স্যাটেলাইট ছবিতে কুয়েতের আহমাদ আল-জাবের বিমান ঘাঁটিতে ইরানি হামলার ধ্বংসাবশেষ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আইআরজিসির দেওয়া তথ্য মতে, তাদের হামলায় কুয়েতের ওই ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বাহিনীর একটি 'এএন/এফপিএস-১১৭' আগাম সতর্কীকরণ রাডার, একটি প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং বিমান কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত একটি সামরিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সাবেক ইসরায়েলি বিমান বাহিনী প্রধান রান কোচাভ এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন যে, জর্ডান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘাঁটিতে আঘাত হানার ফলে মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ও তাদের নজরদারি ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরাক-জর্ডানে প্রাণহানির ঘটনা স্বীকার করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বার্তা দেওয়ার পর, দোভার বিমান ঘাঁটিতে নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই হামলা মার্কিন সামরিক আত্মরক্ষার ক্ষমতাকে আরও ভেঙে দেবে এবং ভবিষ্যতে তাদের ওপর আরও শক্তিশালী ও সিদ্ধান্তমূলক হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।