ব্লেডে কাটা দাগ দূর করার উপায় কী?
ফাইল ছবি
নানা কারণে ত্বকে কাটা দাগ পড়তে পারে। কখনো সেটি অসাবধানতার কারণে হয় আবার কখনো আবেগের বশে করা ভুল। কেটে যাওয়া স্থানের ক্ষত শুকিয়ে গেলেও অনেকসময় দাগ থেকে যায়। কখনো দাগটি কালচে, কখনো লালচে আবার কখনো ক্ষতস্থানের চামড়া কিছুটা উঁচু বা শক্ত হয়ে যায়। বিশেষত ব্লেডে কাটা দাগ অনেকের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই দাগ কি কোনোভাবে দূর করা সম্ভব?
দাগ পুরোপুরি দূর করা সম্ভব কি না, তা নির্ভর করে কাটার গভীরতা, ত্বকের ধরন এবং ক্ষত সারার প্রক্রিয়ার ওপর।
দাগ থেকে যায় কেন?
ত্বকের গভীর স্তর পর্যন্ত কেটে গেলে শরীর ক্ষত সারাতে নতুন কোলাজেন তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ার কারণে ক্ষতস্থানে দাগ তৈরি হতে পারে। কারো ক্ষেত্রে দাগ ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যায়, আবার কারও ক্ষেত্রে তা দীর্ঘদিন দৃশ্যমান থাকে।
ক্ষতর ওপর নির্ভর করে দাগের ধরনও একেক রকম হতে পারে। কোনো দাগ শুধু কালচে বা বাদামি হয়ে থাকে, আবার কোনো দাগ উঁচু ও মোটা হয়ে যায়। তাই দাগ কমানোর পদ্ধতিও সবার জন্য এক নয়। দাগ দূর করার উপায় কী, চলুন জেনে নিই-
ক্ষত শুকানোর পর সিলিকন জেল
ক্ষত পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার পর দাগ কমাতে সিলিকন জেল বা সিলিকন শিট ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি দাগকে নরম ও সমতল করতে এবং ধীরে ধীরে হালকা করতে সাহায্য করে। তবে কাঁচা ক্ষত, রক্তপাত বা সংক্রমণ থাকা অবস্থায় কোনো দাগ কমানোর পণ্য ব্যবহার করা উচিত নয়।
রোদে দাগ আরও গাঢ় হতে পারে
কাটা দাগের ওপর সূর্যের আলো পড়লে দাগ আরও কালচে হয়ে যায়। তাই শরীরের খোলা অংশে কাটা দাগ থাকলে সেখানে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে বের হলে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
ঘরোয়া উপায়ে সতর্কতা
দাগ দূর করার জন্য অনেকে লেবুর রস, টুথপেস্ট, বেকিং সোডা বা বিভিন্ন ধরনের ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করেন। কিন্তু এসব উপাদান ব্যবহারে হিতে বিপরীত হতে পারে। এগুলো ত্বকে জ্বালা, অ্যালার্জি বা প্রদাহের কারণ হতে। এতে দাগ কমার বদলে আরও গাঢ় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ভুলভাল ঘরোয়া উপায় কাজে লাগাবেন না।
পুরনো দাগ দূর করতে করণীয়
পুরনো দাগ পুরোপুরি মুছে ফেলা সবসময় সম্ভব নয়। তবে দাগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করে তা অনেকটাই হালকা করা যায়। দাগ যদি কালচে হয়, তাহলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে নির্দিষ্ট ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। আর দাগ যদি উঁচু বা গভীর হয়, তাহলে লেজার, মাইক্রোনিডলিং বা অন্যান্য চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। পুরনো দাগ দূর করতে যে কাজগুলো করতে পারেন-
মেডিকেটেড ক্রিম ও জেল: সিলিকন বেসড জেল বা দাগ রিমুভার ক্রিম (যেমন- Contractubex বা Mederma) নিয়মিত ব্যবহারে দাগ অনেকাংশেই হালকা হয়ে যায়।
ভিটামিন ই এবং প্রাকৃতিক উপাদান: দাগ নতুন হলে সেক্ষেত্রে ভিটামিন 'ই' ক্যাপসুলের তেল, অ্যালোভেরা জেল বা খাঁটি অলিভ অয়েল দিনে কয়েকবার মালিশ করলে ত্বকের কোষ দ্রুত পুনরুজ্জীবিত হয়।
লেজার থেরাপি: পুরনো ও গভীর দাগ মুছে ফেলার জন্য ডার্মাটোলজিস্টরা লেজার ট্রিটমেন্টের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এটি নতুন কোলাজেন তৈরি করে দাগের রঙ ও গভীরতা স্বাভাবিক ত্বকের সঙ্গে মিলিয়ে দেয়।
কেমিক্যাল পিলিং: ত্বকের মৃত কোষ এবং ওপরের কালো দাগের স্তর তুলে ফেলতে কেমিক্যাল পিল বেশ কার্যকর।
মাইক্রোনিডলিং: এই পদ্ধতিতে ত্বকে ছোট ছোট সূঁচের সাহায্যে ক্ষত সৃষ্টি করে কোলাজেনের উৎপাদন বাড়ানো হয়, যা গর্ত বা দাগ ভরাট করতে সাহায্য করে।
সতর্কতা: যেকোনো স্কিন প্রোডাক্ট বা ক্রিম ব্যবহারের আগে অবশ্যই আপনার ত্বকের ধরন বুঝে কোনো রেজিস্টার্ড চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (Dermatologist) পরামর্শ নিন। চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত কোনো ওষুধ খাওয়া বা ক্রিম ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।