রাজধানীতে গ্রেফতার, সোনারগাঁয়ে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার
প্রতিকি ছবি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার পলাতক আসামি রাসেল আহমেদকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোনারগাঁয় অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় শটগান, চার রাউন্ড কার্তুজ ও ১৪টি টেঁটা উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে র্যাব-১১ (সিপিএসসি) ও র্যাব-২-এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পান্থপথ এলাকা থেকে রাসেল আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কুরবানপুর গ্রামের মৃত সাফাতুল্লার ছেলে।
গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সোনারগাঁয়ের কুরবানপুর এলাকায় তার বাড়ির পাশের একটি গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশীয় শটগান, চার রাউন্ড কার্তুজ এবং ১৪টি টেঁটা উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের দাবি, রাসেল দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানী, কুরবানপুর ও শান্তিনগর এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। স্থানীয় শিল্পকারখানা, আবাসন প্রকল্প ও ড্রেজিং কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ইট-বালু সরবরাহ, স্ক্র্যাপ ব্যবসা এবং নির্মাণকাজ নিয়ন্ত্রণে তার বাহিনী সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া, গুলিবর্ষণ, হামলা, টেঁটাবিদ্ধ করা এবং বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাতেও তার বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব আরও জানায়, রাসেলের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও অন্যান্য অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এবং ঢাকার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়।
গ্রেফতার আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সোনারগাঁ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।