অপহরণ ও মারধর: ফটিকছড়িতে জামায়াতের ১০ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

অপহরণ ও মারধর: ফটিকছড়িতে জামায়াতের ১০ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

ফাইল ছবি

 

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সেক্রেটারিসহ ১০ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মোহাম্মদ ইমাম হোসেন। তার অভিযোগ, বিএনপি-সমর্থিত এক সংসদ সদস্যের পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে ফটিকছড়ি সদর বিবিরহাটের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে ইমাম হোসেন এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ফটিকছড়ি থানায় মামলাটি করেছেন ইমাম হোসেন।

তিনি ফটিকছড়ি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ধুরুং এলাকার বাসিন্দা। ইমাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা। বর্তমানে পৌরসভা পেশাজীবী পরিষদের সদস্য।

মামলার আসামিরা হলেন উপজেলা জামায়াতের আমির নাজিম উদ্দীন ইমু, সাবেক আমির নাজিম উদ্দিন শিকদার, সেক্রেটারি ইউছুপ বিন সিরাজ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতা আবু জাফর, ইব্রাহিম খলিল, গিয়াস উদ্দিন রুবেল, রেজাউল করিম, কাজী মোহাম্মদ লোকমান, মোহাম্মদ রায়হান ও মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

এছাড়া অজ্ঞতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সম্মেলনে ইমাম হোসেন দাবি করেন, গত ২০ জুলাই উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে তার ওপর হামলা হয়। ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া এবং জামায়াতের এক প্রার্থীর দায়ের করা মামলার সমালোচনা করায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা জামায়াতের আমির নাজিম উদ্দীন ইমুর নেতৃত্বে তাকে অপহরণ করে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করা হয়।

পরে তাকে জোর করে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মারধর ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। পরদিন ২১ জুলাই রাত ৩টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা জামায়াতের আমির নাজিম উদ্দীন ইমু। তিনি বলেন, বাদী দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। বিষয়টির নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষকে দলীয় কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল।

সেখানে কাউকে অপহরণ বা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা রুজু করা হয়েছে।