ইসরায়েলে-সৌদির সম্পর্ক স্থাপনের এখনই উপযুক্ত সময়: ট্রাম্প
ছবিঃ সংগৃহীত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বলেছেন, সৌদি আরব তথাকথিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি না হলে তিনি দেশটির সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এগিয়ে নেবেন না।
শুক্রবার সাংবাদিকরা জানতে চান, চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত উল্লেখ না করেই চুক্তির ঘোষণা দিয়ে তার অবস্থানের আগেই এগিয়ে গিয়েছিল কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, না, কেউই এগিয়ে যায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমি শুধু বলছি, এই চুক্তি করতে হলে তাদের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের সদস্য হতে হবে, যা অত্যন্ত সফল হয়েছে। এখন তাদের এটি করার সময় এসেছে।
বুধবার ওয়াশিংটন ও রিয়াদ সৌদি আরবে একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে সই করে।
তবে একদিন পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন একটি শর্ত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে সৌদি আরবকে অবশ্যই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে।
শুক্রবারও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
ট্রাম্প বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তিনি জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নিয়ে কোনো আলোচনা করেননি। তবে বিষয়টি সব সময়ই বোঝাপড়ার মধ্যে ছিল। ক্রিস এটি জানতেন, সৌদি আরবও জানত।
ট্রাম্পের সবশেষ এই বক্তব্য—যেখানে তিনি পারমাণবিক চুক্তিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্তের সঙ্গে যুক্ত করেছেন—এ বিষয়ে সৌদি আরব এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তবে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি সুস্পষ্ট পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। অথচ ইসরায়েলের বর্তমান সরকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণার কড়া বিরোধিতা করে।
ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব—উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হিসেবে তুলে ধরেছিল, সেখানে ইসরায়েলের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
বুধবার এক বিবৃতিতে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, এই চুক্তিগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার, দেশে সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার এবং বিদেশে আমাদের মিত্রদের নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।