রংপুরে তিস্তার ভাঙনে নদীপাড়ে বাড়ছে আতঙ্ক

রংপুরে তিস্তার ভাঙনে নদীপাড়ে বাড়ছে আতঙ্ক

সংগৃহীত ছবি

 

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় তিস্তা নদীর সংরক্ষিত ডান তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিস্তা নদীর সংরক্ষিত এই বাঁধের প্রায় ২০ মিটার ব্লক ধসে নদীতে চলে গেছে। এতে করে হুমকির মুখে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, মসজিদ, সড়কসহ বসতবাড়ি। 

ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীতে জিওব্যাগ ফেললেও নদীপাড়ে আতঙ্ক কাটেনি। ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্তরা। এর আগে গত সপ্তাহে পার্শ্ববতী নোহালী ইউনিয়নে ভাঙনে ২২ পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে চলে যায়। এখনও শতাধিক পরিবার ভাঙন  ঝুঁকিতে রয়েছে। শনিবার সকাল ৯টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে ৫১ দশমিক ৮৭ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হয়েছে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। 

জানা গেছে, উজানের ঢল কমে আসায় তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত কোলকোন্দের প্রায় ২০ মিটার অংশের ব্লক ধসে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ, মসজিদ, সড়ক, বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং শহর রক্ষার গ্রোয়েন বাঁধও ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। 

খবর পেয়ে রাতেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম ও রংপুর-১ আসনের এমপি রায়হান সিরাজী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শনিবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিওব্যাগ ফেললে বাঁধের ভাঙন কিছুটা কমে। অপরদিকে গত সপ্তাহে তিস্তার ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউনিয়নের কাচারীপাড়া ও চর বাগডোহরা। ইতোমধ্যে দুই গ্রামের ২২টি পরিবারের ঘরভিটা, ফসলের ক্ষেত, পুকুর, রাস্তা ঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন আতঙ্কে দিন কাটছে দুই গ্রামের শতাধিক পরিবারের।  

কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার বাসিন্দা শামীম মিয়া বলেন, নদীর তলদেশ পলিতে ভরাট হওয়ায় তিস্তার ডান ও বাম দুই তীরের ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাই বর্ষায় নদী উজানের পানি ধারণ করতে পারছে না। ফলে পানির চাপ নদীর দুই তীরে গিয়ে পড়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ভাঙন বন্ধ করতে হলে নদী ড্রেজিংয়ের কোন বিকল্প নেই।  

কোলকোন্দ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর ডান তীরে বাঁধ দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে শুক্রবার রাতে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন দেখা গেছে। তিস্তায় পলি পড়ে বড় বড় চর তৈরি হচ্ছে। যার ফলে পানি কমার সাথে এসব তীরে আঘাত আসছে। ইতোমধ্যে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু হয়েছে।  

নোহালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, আমার ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারী পাড়া ও ৭ নং ওয়ার্ডের বাগডোহরা গ্রামের ২২টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। 

রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে সংসদে ও রাজপথে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর দাবি জানানো হয়েছে। দ্রুত এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নদী ভাঙনে প্রতি বছর মানুষকে সর্বস্ব হারা হতে হবে না। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করেছে।