কিয়ামতের ভয়াবহতা

কিয়ামতের ভয়াবহতা

ফাইল ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত মিকদাদ (রা.)- থেকে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, কিয়ামতের ময়দানে সূর্যকে সৃষ্টজীবের অনেক কাছাকাছি করা হবে, ফলে সূর্য ও সৃষ্টজীবের মধ্যে দূরত্ব হবে মাত্র এক মাইল। মিকদাদ (রা.)- থেকে রাবি সুলাইম ইবনে আমির বলেন, ওয়াল্লাহি! আমি জানি না, রাসুলুল্লাহ (সা.) এখানে মাইল দ্বারা কোন মাইল উদ্দেশ্য নিয়েছেন! জমিনের দূরত্ব সমপরিমাণ মাইল, নাকি (সুরমাদানির) শলাকা, যার দ্বারা চোখে সুরমা লাগানো হয়, সেটা উদ্দেশ্য নিয়েছেন! (কেননা সেটাকেও মাইল বলা হয়)।

তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষ নিজ-নিজ আমল অনুযায়ী ঘামের মধ্যে ডুবে থাকবে। সেদিন কারো ঘাম হবে পায়ের টাখনু পর্যন্ত। আবার কারো-কারো হাঁটু পর্যন্ত ঘাম হবে। আবার কারো ঘাম হবে নাক পর্যন্ত।

এ কথা বলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর মুখের দিকে ইশারা করলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭২০৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩৮১৩)

শিক্ষা ও বিধান 
১. কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী : একদিন অবশ্যই কিয়ামত সংঘটিত হবে এবং প্রত্যেক মানুষকে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হতে হবে।
২. কিয়ামতের ভয়াবহতা : সেদিন সূর্য মানুষের খুব কাছে আনা হবে, যা কিয়ামতের কঠিন ও ভয়ংকর অবস্থার পরিচয় বহন করে।
৩. আমলের গুরুত্ব : মানুষের ঘাম তার আমল অনুযায়ী হবে।

যার আমল যত খারাপ, তার কষ্টও তত বেশি হবে।
৪. ন্যায়বিচারের প্রমাণ : আল্লাহ তাআলা কারও প্রতি অবিচার করবেন না; প্রত্যেককে তার কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দেওয়া হবে।
৫. নেক আমলের প্রতি উৎসাহ : সালাত, সিয়াম, জাকাত, সদকা, সৎকাজ ও আল্লাহভীতি মানুষের কিয়ামতের কষ্ট লাঘবের কারণ হতে পারে।
৬. গুনাহ থেকে সতর্কতা : পাপ ও অবাধ্যতা কিয়ামতের দিন মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেবে।
৭. আখিরাতমুখী জীবন গড়ার শিক্ষা : দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ভোগে মগ্ন না হয়ে আখিরাতের সফলতার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।


৮. তাওবার গুরুত্ব : কিয়ামতের কঠিন দিনের আগে আন্তরিক তাওবা করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা জরুরি।
৯. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সতর্কবাণী : তিনি উম্মতকে ভবিষ্যতের ভয়াবহ পরিস্থিতি জানিয়ে সতর্ক করেছেন, যাতে তারা নিজেদের সংশোধন করতে পারে।
১০. আল্লাহর রহমতের আশা : ভয়াবহ দিনের বর্ণনা মুমিনকে ভীত করার পাশাপাশি নেক আমল ও আল্লাহর রহমতের আশায় জীবন পরিচালনার শিক্ষা দেয়।