স্বাদ আর ঐতিহ্যের মিশেলে অতুলনীয় ‘নাগা বিফ খিচুড়ি’
সংগৃহীত ছবি
ভোজনরসিক হিসেবে বাঙালির যেমন খ্যাতি আছে, তেমনি বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমৃদ্ধ ও অনন্য সম্ভারও রয়েছে। আমাদের রন্ধনশৈলীর কথা উঠলে যে কটি ঐতিহ্যবাহী খাবারের নাম সবার আগে মনে আসে, তার মধ্যে খিচুড়ি অন্যতম।
শীত, গ্রীষ্ম বা বর্ষায়, পারিবারিক ভোজ বা উৎসব যা-ই হোক—এক প্লেট ধোঁয়া ওঠা খিচুড়ি যেন বাঙালির আবেগ, স্মৃতি ও ভালোবাসার আরেক নাম। চিরচেনা খিচুড়িকে এবার নতুন এক স্বাদে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার হেরিটেজ কাবাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। তাদের মেন্যুতে যুক্ত হয়েছে নতুন পদ ‘নাগা বিফ খিচুড়ি’। ঐতিহ্যবাহী খিচুড়ির সঙ্গে নাগা মরিচের ঝাঁজ, ধীর আঁচে রান্না করা নরম গরুর মাংস আর দেশীয় মসলার সুগন্ধ মিলিয়ে তৈরি করা হয় অত্যন্ত সুস্বাদু এই পদ।
‘শতভাগ বাঙালিয়ানা, ষোলো আনা স্বাদ’—এই প্রতিজ্ঞায় যাত্রা শুরু হেরিটেজ কাবাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও আশপাশের এলাকার ভোজনরসিকদের কাছে খাঁটি দেশীয় খাবারের স্বাদ পৌঁছে দেওয়াই হেরিটেজের মূল লক্ষ্য। ঐতিহ্যবাহী বাংলা রন্ধনশৈলী আর প্রিমিয়াম আতিথেয়তায় অল্প সময়ের মধ্যে খাবারপ্রেমীদের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে হেরিটেজ কাবাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। মোগল স্থাপত্যশৈলীতে সাজানো রেস্টুরেন্টটির পরিবেশ যেমন রাজকীয়, তেমনি খাবারের তালিকাও পুরোপুরি দেশীয় ঐতিহ্যনির্ভর।
রেস্টুরেন্টের শেফরা জানান, নাগা বিফ খিচুড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয় প্রিমিয়াম গরুর মাংস, উত্কৃষ্ট চাল ও ডাল, আসল নাগা মরিচ, দেশীয় সুগন্ধি মসলা, খাঁটি সরিষার তেল এবং বিশেষ আচার। গরুর মাংস দীর্ঘ সময় ধরে অল্প আঁচে রান্না করা হয়, যাতে মসলা গভীরভাবে মিশে মাংস নরম ও রসালো হয়ে ওঠে। পরে তা সুগন্ি খিচুড়ির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। ফলে প্রতি লোকমায় পাওয়া যায় ঝাঁজ, সুগন্ধ ও তৃপ্তির অনন্য আস্বাদ।
খেতে শুরু করলে প্রথমেই টের পাওয়া যায় মোলায়েম খিচুড়ির স্বাদ।
এরপর ধীরে ধীরে অনুভূত হয় নাগা মরিচের ঝাঁজ। তবে এই ঝাঁজ তীব্র কিংবা অস্বস্তির নয়। নরম গরুর মাংস, ঘি ও মসলার মিশেল পরিপূর্ণ করে তোলে রসনাতৃপ্তি। সঙ্গে পরিবেশন করা বিভিন্ন ধরনের আচার রসনাতৃপ্তিকে আরো সমৃদ্ধ করে তোলে। যাঁরা ঝাল খাবার পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এই খাবারটি বিশেষ আকর্ষণীয় একটি পদ।
পুষ্টিগুণের দিক থেকেও খিচুড়ি একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাবার। চাল থেকে পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় শর্করা, ডাল সরবরাহ করে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও খাদ্য আঁশ, আর গরুর মাংস থেকে পাওয়া যায় উচ্চমানের প্রাণিজ প্রোটিন, আয়রন, জিংক ও ভিটামিন বি-১২। পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে এটি হতে পারে শক্তিদায়ক ও পুষ্টিকর একটি পূর্ণাঙ্গ খাবার।
ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) ব্র্যান্ড বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার মেহেদী হাসান মোল্লা বলেন, ‘হেরিটেজ কাবাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবারের জন্য পরিচিত। নাগা বিফ খিচুড়ি যুক্ত হওয়ায় আমাদের মেন্যু আরো সমৃদ্ধ হয়েছে। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম দেশীয় খাবারের বৈচিত্র্য নতুনভাবে ভালোবাসুক।’
বর্তমানে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘এ’ ব্লকে রয়েছে হেরিটেজ কাবাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের একমাত্র শাখা। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রেস্টুরেন্টটি খোলা থাকবে। সকাল, দুপুর ও রাত—তিন বেলাই এখানে পাওয়া যায় খাবারের নানা পদ। তবে নাগা বিফ খিচুড়ি শুধু দুপুর ও রাতে পাওয়া যায়। রয়েছে অনলাইন অর্ডারের সুবিধাও। প্রতি প্লেট নাগা বিফ খিচুড়ির মূল্য ৩৬০ টাকা।
রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, এখানে সকালের নাশতা থেকে দুপুর ও রাতের খাবার—প্রতি বেলায় রয়েছে বাঙালির পরিচিত ও প্রিয় নানা পদের আয়োজন। সকালে বিভিন্ন ধরনের রুটি, পরোটা ও লুচির সঙ্গে পরিবেশন করা হয় দেশীয় স্বাদের ভুনা, ভাজি, ডাল, গরু বা মুরগির মাংসসহ নানা পদ। দুপুরে ধোঁয়া ওঠা সাদা ভাতের সঙ্গে থাকে নদী ও সমুদ্রের বিভিন্ন মাছ, মুখরোচক ভর্তা, সবজি, ডাল এবং ঘরোয়া স্বাদের মাংসের পদ, যা মনে করিয়ে দেয় পরিবারের সঙ্গে বসে খাওয়ার আন্তরিক অনুভূতি।
রাতের খাবারে অপেক্ষা করে আরো রাজকীয় আয়োজন। মুরগির রেজালা, লাল ভুনা, তেহারি, খাসির কাচ্চি বিরিয়ানি, বিভিন্ন ধরনের কাবাবসহ দেশীয় ও মোগল রন্ধনশৈলীর নানা সুস্বাদু পদে সাজানো হয় খাবারের টেবিল। প্রতিটি খাবারের উপকরণের মান, ঐতিহ্যবাহী রান্নার কৌশল এবং আসল স্বাদ বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পাশাপাশি ধোঁয়াটে সুবাসে ভরা বিভিন্ন ধরনের কাবাব এবং খাবার শেষে মুখে মিষ্টি স্বাদ এনে দিতে রয়েছে আকর্ষণীয় ডেজার্টের সমৃদ্ধ সংগ্রহ। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে আড্ডা আর সুস্বাদু খাবারের স্মরণীয় মুহূর্ত কাটাতে হেরিটেজ কাবাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট হতে পারে আপনার অনন্য এক গন্তব্য, যেখানে প্রতিটি পরিবেশনায় মেলে বাংলার ঐতিহ্যের ছোঁয়া, আন্তরিক আতিথেয়তা এবং ষোলো আনা স্বাদের প্রতিশ্রুতি।