টেন্ডার জালিয়াতি-ঘুস দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

টেন্ডার জালিয়াতি-ঘুস দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ফাইল ছবি

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে টেন্ডারে জালিয়াতি, প্রতারণা ও ১০ লাখ টাকা ঘুস দাবির অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলীসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন। হবিগঞ্জের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সদর উপজেলার রিচি গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে ঠিকাদার মো. জুবাঈদ মিয়া। 

আসামিরা হলেন- হবিগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম ও সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান খান। অন্য দুই আসামি হলেন- দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। 

মামলার সাক্ষী হবিগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর টিপু আহমেদ জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম তাকে ফোন করে অফিসে ডেকে নিয়ে একটি টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। 

তিনি জানান, টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় পরে জামাল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, ওই প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়েও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণেই ঠিকাদার জুবাঈদ মিয়া আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম জানান, তিনি ইতোমধ্যে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে বদলি হয়ে গেছেন। রোববার (২৬ জুলাই) তিনি দায়িত্ব হস্তান্তরও করেছেন। 

তিনি জানান, ঘটনাটি ২০২৫ সালের। তখন একটি রাস্তার কাজের জন্য কাউন্সিলর টিপু আহমেদ পৃথক দুটি লাইসেন্সে টেন্ডার জমা দেন। কিন্তু সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পায় জামাল এন্টারপ্রাইজ। টিপু আহমেদের দেওয়া লাইসেন্স দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়। এর মধ্যে একটি লাইসেন্সের সার্টিফিকেট জাল হওয়ায় টেন্ডার সিকিউরিটির ২০ লাখ টাকা সরকারি বিধান অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি হয়তো মামলাটি করিয়েছেন।

এলজিইডির নতুন দায়িত্ব প্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী জুম্মন শাহ বলেন, আমি এখানে একেবারেই নতুন এসেছি। আসলে বিষয়টি সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, এলজিইডির আওতায় নবীগঞ্জ উপজেলার ইমামবাড়ী-বুরিনাও সড়কের উন্নয়ন, ইউ-ড্রেনেজ, বক্স কালভার্ট ও প্রতিরক্ষা কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম, জালিয়াতি ও কারসাজি করা হয়েছে। নিয়ম অনুসারে তার (বাদীর) প্রতিষ্ঠানের কাজ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টেন্ডার কার্যক্রম চলাকালে নির্বাহী প্রকৌশলী তার কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুস দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় পরিকল্পিতভাবে তাকে বঞ্চিত করে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।