ইরানের ক্ষমতার খুব কাছে গিয়েও কেন থমকে গেলেন রেজা পাহলভি
সংগৃহীত ছবি
চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও 'দখলদার' ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় আসেন শাহ রেজা পাহলভি। দীর্ঘ সাড়ে চার দশক নির্বাসনে থাকা এই রাজতন্ত্রপন্থী নেতা নিজেকে ইরানের পরবর্তী সম্ভাব্য গণতান্ত্রিক রূপান্তরের একটি সেতু হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তবে কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই রাজনৈতিক প্রচেষ্টা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসনের সীমিত আগ্রহ, অর্থদাতাদের একাংশের অসন্তোষ এবং কিছু সমর্থকের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড রেজা পাহলভির রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে।
মার্কিন অবস্থান
রেজা পাহলভি নিজেকে ইসলামিক রিপাবলিক পরবর্তী ইরানের একটি সম্ভাব্য বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে উপস্থাপন করলেও ওয়াশিংটনের অবস্থান সে রকম স্পষ্ট নয়।
গত মার্চে কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে অংশ নিয়ে তিনি সমর্থকদের উচ্ছ্বসিত অভ্যর্থনা পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার প্রতি তেমন সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, পাহলভি ব্যক্তি হিসেবে ভালো হলেও ইরানের জনগণের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটা, তা স্পষ্ট নয়। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইরানি মানবাধিকার কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে পাহলভির নাম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এ ছাড়া জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে শাসন পরিবর্তনের কোনো শর্ত রাখা হয়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বলেছেন, রেজা পাহলভিকে ক্ষমতায় বসানো যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নয়।
সমর্থকদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড
বিশ্লেষকদের মতে, রেজা পাহলভির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইরানের বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠীকে এক প্ল্যাটফর্মে আনতে না পারা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও অস্ট্রিয়ায় পাহলভির কিছু সমর্থকের বিরুদ্ধে বিরোধী কর্মী ও ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। কানাডায় এক সমালোচক গবেষক মাসুদ মাসজুদিকে হত্যার অভিযোগে পাহলভির দুই সমর্থকের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যার মামলা হয়েছে।
তবে রেজা পাহলভি এসব সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে দাবি করেছেন।
ইরানের ভেতরে কতটা ভিত্তি
বিশ্লেষকদের মতে, রেজা পাহলভির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো ইরানের অভ্যন্তরে তার দৃশ্যমান সাংগঠনিক ভিত্তির অভাব।
তিনি দাবি করেছেন, ইরানের ভেতরে এক হাজারের বেশি গোপন সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। তবে রয়টার্স বলছে, এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ ৪৬ বছর নির্বাসনে থাকার কারণে দেশের ভেতরে তার জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, ইরানে বর্তমান শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও বিকল্প নেতৃত্বের প্রশ্নে এখনও স্পষ্ট কোনো ঐকমত্য তৈরি হয়নি। রেজা পাহলভি নিজেকে একটি অন্তর্বর্তী সেতু হিসেবে তুলে ধরলেও পশ্চিমা বিশ্বের সতর্ক অবস্থান, বিরোধী শিবিরের বিভক্তি এবং ইরানের অভ্যন্তরে সীমিত রাজনৈতিক ভিত্তি তাকে সর্বজনগ্রাহ্য বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।