প্রবাসী পরিবারকে উচ্ছেদের পাঁয়তারার অভিযোগ স্বজনদের বিরুদ্ধে

প্রবাসী পরিবারকে উচ্ছেদের পাঁয়তারার অভিযোগ স্বজনদের বিরুদ্ধে

সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুরে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পরিবারকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করার অভিযোগ উঠেছে। ঘরের তালা ভেঙে করা হয়েছে মালামাল লুট।

পরিবারটি জানিয়েছে, ঘটনার সাড়ে ৩ মাস পার হলেও মামলা নিচ্ছে না পুলিশ। এতে আতঙ্কে গ্রামের বাড়িতে আসতে পারছেন না তারা। পরিবারের কোনো সদস্য বাড়িতে এলেও কয়েক ঘণ্টা থেকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে হয়। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে পরিবারটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ভুক্তভোগী যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আকতার হোসেন লিটন ঘটনাটি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান। এসময় তিনি কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশের প্রতি আকুতি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী লিটন জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের কাজী বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মিয়ার ছেলে।

আকতার হোসেন লিটন জানায়, গত ১৪ এপ্রিল রাতে তাদের ঘরের দরজার তালা ভেঙে বাথরুমের কমোড-বেসিনসহ আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় তার ভাতিজা ফয়সাল বিন হোসাইন মামলা করতে গেলে তা নেয়নি চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও তার কোনো স্মারক নম্বর দেওয়া হয়নি। ঘটনার সাড়ে ৩ মাস পার হলেও অভিযোগটি মামলায় অন্তর্ভুক্ত বা তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। এমনকি পুলিশ ঘটনাস্থলেই যায়নি। এমনকি অভিযোগকারীকে পুলিশের কেউ ফোনকলও দেয়নি।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় লোকজন জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আকতার হোসেন লিটনের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তার বড়ভাই দেলোয়ার হোসেনের পরিবারও ৪০ বছর সৌদি প্রবাসী ছিলেন। করোনার সময় সৌদিতে দেলোয়ার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর তার পরিবার গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। তবে বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি লিটনের চাচি সুফিয়া বেগম, চাচাতো ভাই ওহিদুল ইসলাম পিয়াস ও দুই বোন। তাদের অত্যাচারে লিটনের ভাইয়ের পরিবার বাড়িতে থাকতে না পেরে ফিরে গিয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন। এর মধ্যেই তাদের বসতঘরটি দখলের পাঁয়তারা করছে পিয়াসরা। এ ছাড়া বসতঘরের আশপাশ এবং বাড়ির উঠান দখল করে নেওয়া হয়েছে। সবশেষ ১৪ এপ্রিল রাতে ঘরের দরজার তালা ভেঙে বাথরুমের কমোড, বেসিনসহ আসবাবপত্র লুটে নিয়ে যায়।

থানায় অভিযোগকারী ফয়সাল বিন হোসাইন বলেন, রহস্যজনক কারণে পুলিশ আমার মামলা নেয়নি। এমনকি লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

ফয়সালের মা নুর জাহান বেগম বলেন, স্বামীর ভিটায় আমি থাকতে চাই। কিন্তু লুটপাট ও হয়রানি করে আমাদেরকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। নিরাপদে বসবাসের লক্ষ্যে আইনি সহায়তা চাই।

অভিযুক্ত ওহিদুল ইসলাম পিয়াস মুঠোফোনে বলেন, লিটনরা আমাদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ করে আসছে। তাদের অভিযোগ সত্য নয়।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব বলেন, আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি জানা নেই। তবে ভুক্তভোগী পরিবারকে আবার থানায় আসার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।