ফ্রিজ নষ্ট হয়েছে কি না একটা সাদা কাগজের টুকরো বলে দেবে
ফাইল ছবি
অনেক সময় ফ্রিজ দীর্ঘ সময় চলার পরও খাবার ঠান্ডা হয় না। আবার মাসের শেষে বিদ্যুতের বিলও আসে অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে ফ্রিজের দরজায় আসল সমস্যা থাকতে পারে। আপনার ফ্রিজ কি হঠাৎ করেই ঠিকমতো ঠান্ডা করা বন্ধ করে দিয়েছে? অথবা ফ্রিজারের ভেতরে অতিরিক্ত বরফ জমছে? এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই তড়িঘড়ি মেকানিক ডেকে ফেলেন এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ করে বসেন। কিন্তু জানেন কি, অনেক সময় এই সমস্যার আসল কারণ হতে পারে ফ্রিজের দরজার চারপাশে থাকা রাবারের সিল বা ডোর গ্যাসকেট।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই সমস্যা আছে কি না তা বুঝতে কোনও মেকানিকের প্রয়োজন নেই। শুধু একটি ছোট কাগজের টুকরা দিয়েই আপনি সহজে পরীক্ষা করতে পারবেন। এই সহজ পেপার টেস্ট আপনাকে জানিয়ে দেবে দরজার রাবার ঠিকমতো সিল করছে কি না। যদি রাবার ঢিলে হয়ে যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে ঠান্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে যায়। ফলে ফ্রিজকে বেশি সময় ধরে কাজ করতে হয়, যার কারণে ফ্রিজ ঠিকমতো ঠান্ডা করতে পারে না, ফ্রিজারে অতিরিক্ত বরফ জমতে পারে, খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, এমনকি বিদ্যুতের বিলও বেড়ে যেতে পারে।
তাই মেকানিক ডাকার আগে এই সহজ পরীক্ষাটি করে দেখুন। অনেক ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র দরজার রাবার পরিষ্কার করা বা বদলে দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায় এবং অযথা খরচও বাঁচে। ফ্রিজের বিদ্যুতের বিল হঠাৎ বেড়ে যাওয়া, ফ্রিজারে অতিরিক্ত বরফ জমা বা ফ্রিজ থেকে অস্বাভাবিক জোরে শব্দ হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে ডোর সিল, অর্থাৎ দরজার চারপাশে থাকা রাবারের গ্যাসকেট।
ফ্রিজের দরজার চারপাশে লাগানো এই রাবার গ্যাসকেটের কাজ হলো ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে যেতে না দেওয়া এবং বাইরের গরম বাতাস ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এই রাবার ঢিলে, ফেটে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে। তখন ঠান্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে যেতে থাকে, ফলে ফ্রিজকে বেশি পরিশ্রম করতে হয় এবং বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।
এই সমস্যাটি আছে কি না, তা খুব সহজেই পরীক্ষা করা যায়। একটি সাধারণ কাগজের টুকরো ব্যবহার করেই আপনি বুঝতে পারবেন দরজার রাবারের সিল ঠিকমতো কাজ করছে কি না। যদি কাগজটি সহজেই বেরিয়ে আসে, তাহলে বুঝতে হবে রাবারের সিল আগের মতো শক্ত নেই এবং সেটি মেরামত বা পরিবর্তন করার সময় হয়েছে।
এই সহজ পরীক্ষাটি ঘর্ষণ এবং এয়ার প্রেসারের নীতির ওপর কাজ করে। মাত্র একটি কাগজ দিয়ে কয়েক মিনিটেই বুঝে নেওয়া যায় ফ্রিজের দরজার রাবারের সিল ঠিকমতো কাজ করছে কি না।
কীভাবে করবেন পেপার টেস্ট?
একটি সাইজের কাগজ নিন এবং ফ্রিজের দরজা খুলুন। কাগজটি এমনভাবে রাখুন, যাতে অর্ধেক অংশ ফ্রিজের ভেতরে এবং অর্ধেক অংশ বাইরে থাকে। এবার ফ্রিজের দরজা ভালোভাবে বন্ধ করুন। দরজা না খুলেই কাগজটি সোজা টেনে বের করার চেষ্টা করুন। একই পরীক্ষা দরজার উপরে, মাঝখানে, নিচে এবং চারটি কোণায় করুন। কারণ রাবার সাধারণত সব জায়গায় সমানভাবে ক্ষয় হয় না।
যদি দরজার রাবার ঠিকঠাক থাকে, তাহলে কাগজটি শক্তভাবে আটকে থাকবে এবং সহজে বের হবে না। কিন্তু যদি কাগজটি খুব সহজেই বেরিয়ে আসে, তাহলে বুঝতে হবে ওই অংশের ডোর সিল নষ্ট হয়ে গেছে এবং সেখান দিয়ে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যাচ্ছে। ডোর সিলে ফাঁক থাকলে কম্প্রেসারকে দীর্ঘ সময় ও বেশি চাপ নিয়ে কাজ করতে হয়। বিদ্যুতের বিল বেড়ে যায়। ফ্রিজারে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ঢুকে দ্রুত বরফ জমে। তাপমাত্রা স্থির না থাকায় খাবার দ্রুত নষ্ট হতে পারে। আপনার ফ্রিজ যদি চার-পাঁচ বছরের বেশি পুরোনো হয়, তাহলে কয়েক মাস অন্তর একবার এই পেপার টেস্ট করুন। সময়মতো সমস্যা ধরা পড়লে অযথা বিদ্যুতের বিল, খাবার নষ্ট হওয়া এবং বড় ধরনের মেরামতের খরচ—সবই এড়ানো সম্ভব।