গবেষণার নামে উটপাখি দিয়ে ভোজন বিলাস, এনসিপির নিন্দা

গবেষণার নামে উটপাখি দিয়ে ভোজন বিলাস, এনসিপির নিন্দা

ফাইল ছবি

গবেষণার নামে উটপাখি জবাই ও সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) ১৩৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এনসিপির কৃষি সম্পাদক কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম বলেন, গত ২৫ জুলাই দৈনিক বণিক বার্তায় প্রকাশিত ‘গবেষণার নামে ১৫ উটপাখিকে জবাই, ১৩৪ কোটি টাকার উটপাখি প্রকল্পের অর্থ লুট’ শীর্ষক সংবাদটি জাতীয় নাগরিক পার্টির দৃষ্টিগোচর হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গরু-খাসির বিকল্প মাংসের উৎস হিসেবে উটপাখি বাংলাদেশে প্রচলনের লক্ষ্যে সাভারে অবস্থিত বিএলআরআই ১৩৪ কোটি টাকার একটি গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পের আওতায় আফ্রিকা থেকে দুই ধাপে ২২টি উটপাখি আমদানি করা হয়।

এনসিপির দাবি, অভিযোগ অনুযায়ী ওই ২২টি উটপাখির মধ্যে ১৫টি ‘স্বাদ যাচাই’-এর নামে জবাই করা হয়। তিনটিকে মৃত দেখানো হয়েছে, দুটি অসুস্থ এবং বাকি দুটির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে প্রকল্পের কোনো দৃশ্যমান গবেষণা ফলাফলও উপস্থাপন করা হয়নি।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রকল্প পরিচালক ও বিএলআরআইর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সাজেদুল করিম সরকার প্রকল্পে স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে স্ত্রী, শ্যালক, ভায়রাভাই, ভাগিনা, মামাতো ও চাচাতো আত্মীয়সহ ১৮ নিকটাত্মীয়কে নিয়োগ দেন। পরে সরকারি অর্থে আমদানি করা উটপাখি আত্মীয়-স্বজন নিয়ে ভোজনের অভিযোগও তোলা হয়।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপি পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলো—

১. উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিভাগীয় তদন্ত: প্রকল্পের নামে কত টাকা কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং উটপাখি জবাইয়ের পেছনে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক যুক্তি কী ছিল- তা তদন্তে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। ২. জবাবদিহিতা ও শাস্তি নিশ্চিতকরণ: প্রকল্পের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, গবেষক ও নীতি-নির্ধারকদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৩. অর্থ উদ্ধার: গবেষণার নামে অপচয় করা জনগণের বিপুল অঙ্কের টাকা দায়ীদের কাছ থেকে উদ্ধার করতে হবে। ৪. প্রাণী কল্যাণ আইন বাস্তবায়ন: গবেষণার নামে যেন কোনো প্রাণীর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা ও খামখেয়ালিপনা আর না হয়, সে জন্য প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ৫. বিএলআরআইর প্রকল্প অনুমোদনের পূর্বে অধিকতর যাচাই-বাছাই: ভবিষ্যতে যে কোনো প্রকল্প অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অতীত কর্মকাণ্ড ও প্রকল্পের সম্ভাব্যতা কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে।

বিবৃতিতে এনসিপি বলেছে, জনগণের রক্ত-ঘামে অর্জিত রাষ্ট্রীয় অর্থের এমন অপচয় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দলটি অনতিবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।