কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভে দুই দফা পাহাড় ধস, পর্যটকসহ আহত ৫
সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কে দুই দফায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে পর্যটকসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বুধবার সকাল ১০টা ও দুপুর ১২টায় পৃথক দুই দফায় এ পাহাড় ধস ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেরিন ড্রাইভের পূর্ব পাশে ৮০ থেকে ৯০ ফুট উঁচু পাহাড়ের একটি অংশ গাছসহ ধসে সড়কের ওপর পড়ে। এ সময় সড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। এসব যানবাহনের যাত্রীদের বেশির ভাগই পর্যটক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণের ফলে দরিয়ানগর এলাকার মাটি নরম হয়ে এই ধসের সৃষ্টি হয়। এতে মেরিন ড্রাইভ সড়কের ওপর কাদামাটির আস্তরণ পড়ে যায়।
এতে এক পর্যটকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। বুধবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পাহাড় ধসের মাটি সড়কে একটি অটোরিকশার ওপর পড়েছিল। এতে ওই অটোরিকশায় থাকা পাঁচজন আহত হন। তাদের একজন কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিলেন। আহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী দরিয়া নগরের বাসিন্দা মমতাজ আলম বলেন, পাহাড়ধসের সময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা হিমছড়ির দিকে যাচ্ছিল। ধসে পড়া মাটির কিছু অংশ ইজিবাইকের ওপর পড়ে।পাহাড় ধসের কারণে প্রায় আড়াই ঘণ্টা মেরিন ড্রাইভে যানচলাচল বন্ধ ছিল। পরে মাটি ও গাছপালা সরিয়ে যানচলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, আহতদের মধ্যে পর্যটকসহ তিনজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে, আবহাওয়া অধিদফতরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান বলেন, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১২১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এ ধরনের ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন পাহাড়ঘেঁষা অংশে ছোট-বড় পাহাড় ধসের ঘটনা প্রায়ই ঘটে, যা পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও দূরপাল্লার যানবাহনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।