সাপে কাটা চিকিৎসায় দৃষ্টান্ত গড়লো বোচাগঞ্জ হাসপাতাল

সাপে কাটা চিকিৎসায় দৃষ্টান্ত গড়লো বোচাগঞ্জ হাসপাতাল

সংগৃহীত ছবি

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ৩২ দিনে সাপে কাটা ৩১ জন রোগী সফল চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, দ্রুত হাসপাতালে আনা, সময়মতো অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ এবং সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণেই একের পর এক রোগীকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সর্পদংশনের ৩১ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে গোখরা সাপের কামড়ে আক্রান্ত চারজনও রয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

সর্বশেষ বুধবার বিকেলে বোচাগঞ্জ উপজেলার ইজিবাইকচালক তরিকুল ইসলামের স্ত্রী সাদিয়া আক্তার (১৭) বাড়ির আঙিনায় সাপের কামড়ে আহত হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তিনিও সুস্থ হয়ে ওঠেন। এর আগে ২৫ জুলাই সাদেকুল ইসলাম (২১), ১০ জুলাই সুজন চন্দ্র রায় (২৭) এবং ৪ জুলাই প্রকৃত চন্দ্র রায় (৪৩) একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. আবদুল্লাহ ইবনে এনাম বলেন, সাপটি চেনা না গেলেও বা দেখা না গেলেও সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে আসাই রোগীর প্রাণ বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রতিটি রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সময় স্বজনদের স্বস্তিই চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিজয় কুমার রায় বলেন, সর্পদংশনের পর ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের আশ্রয় না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসতে হবে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করলে অধিকাংশ রোগীকেই সুস্থ করা সম্ভব।

তিনি জানান, সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মারুফ হাসানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চিকিৎসা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করেছে।