ইয়েমেনে হুথিদের হামলায় নিহত ১১
সংগৃহীত
ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখায় হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন বেসামরিক নাগরিক ও আটজন সামরিক সদস্য রয়েছেন। স্থানীয় একটি চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
এর আগে লোহিত সাগরের উপকূলে সৌদি আরবের একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলাও চালায় হুথি বিদ্রোহীরা।
ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কয়েক বছরের যুদ্ধবিরতি গত মাসে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মিত্র আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর দেশটিতে আবারও লড়াই শুরু হয়েছে।
জাতিসংঘের সমর্থনে ২০২২ সালে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধ ঘোষণা করে। এর অংশ হিসেবে তারা লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী জাহাজ এবং দেশটির তেল অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে। একই সময়ে ইরানও হরমুজ প্রণালি অবরোধ করেছে।
সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা মোখা শহরের চিকিৎসা সূত্র জানায়, হুথিদের হামলায় আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জন বেসামরিক নাগরিক। বেসামরিক হতাহতের সবাই মোখা বন্দরে চালানো হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে ইয়েমেন সরকারের দুটি সামরিক সূত্র জানিয়েছিল, হামলায় অন্তত আট সেনা নিহত এবং ৪০ জনের বেশি সামরিক সদস্য আহত হয়েছেন।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তারা ওই এলাকায় থাকা ‘সৌদি শত্রু’ সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছেন।
ইয়েমেন সরকারের দুই সামরিক সূত্রও জানিয়েছে, হুথিরা মোখায় কয়েক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর পাশাপাশি মোখার বাইরে সরকারপন্থি বাহিনীর অবস্থান ও স্থাপনা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছের কয়েকটি দ্বীপেও হামলা চালানো হয়েছে।
এক সামরিক সূত্র জানায়, হামলার কয়েকটি লক্ষ্যস্থলে সৌদি সেনা অবস্থান করছিল। তবে সৌদি সামরিক সদস্যদের মধ্যে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে মোখার বাসিন্দারা হামলার সময় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। এক বাসিন্দা বলেন, বন্দর ও শহরের ওপর ড্রোন এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
আরেক বাসিন্দা জানান, বন্দরে পরপর ছয়টি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।