শিক্ষক নিয়োগ কমিটির হাতে ফেরানোর উদ্যোগে দেশজুড়ে চরম ক্ষোভ

শিক্ষক নিয়োগ কমিটির হাতে ফেরানোর উদ্যোগে দেশজুড়ে চরম ক্ষোভ

ফাইল ছবি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা) প্রবেশপর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) হাত থেকে কেড়ে নিয়ে আবারও স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নীতি নির্ধারণী বৈঠকে এনটিআরসিএ-এর সরাসরি নিয়োগ সুপারিশের ক্ষমতা বাতিল করে পুরোনো কমিটিকেন্দ্রিক নিয়োগ ব্যবস্থা ফেরানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফুঁসে উঠেছেন দেশজুড়ে থাকা শিক্ষক সমাজ, এনটিআরসিএ সনদধারী চাকরিপ্রার্থী এবং মেধাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট আয়োজিত সভায় আইনগত জটিলতা ও নিজ জেলা থেকে দূরে শিক্ষকদের পদায়নের অজুহাত দেখিয়ে এই ক্ষমতা খর্বের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। ২০০৫ সালে এনটিআরসিএ গঠনের পর প্রথম এক দশক তারা কেবল পরীক্ষা নিয়ে সনদ প্রদান করত। ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবরের গেজেট সংশোধনের মাধ্যমে সংস্থটি কেন্দ্রীয়ভাবে মেধার ভিত্তিতে সরাসরি নিয়োগ সুপারিশের ক্ষমতা পায়। যার ফলে গত ১১ বছরে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক কোনো প্রকার ঘুস বা স্বজনপ্রীতি ছাড়াই মেধার জোরে চাকরি পেয়েছেন।

কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন এই উদ্যোগের সংবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থী সংগঠন। তাদের মতে, এনটিআরসিএ-এর মেধাভিত্তিক সুপারিশ বাতিল হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবারও দুর্নীতি, নিয়োগবাণিজ্য এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের আর্থিক লেনদেনের আখড়ায় পরিণত হবে। চাকরিপ্রার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, এতে যোগ্য মেধাবী প্রার্থীরা শিক্ষকতা পেশায় আসার সুযোগ হারাবেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে শুরু হয়েছে কঠোর সমালোচনা। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রিন্সিপাল দেলাওয়ার হোসাইন আজিজি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ NTRCA এর কাছ থেকে কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত হলে ৬ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীকে সঙ্গে নিয়ে সারা দেশে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে একযোগে কর্মবিরতিতে যাবেন শিক্ষকরা। এটি কোনো সাধারণ দাবি নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থাকে অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষার আন্দোলন।”

অনেক শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, ২০১৫ সালে এনটিআরসিএ-কে নিয়োগের ক্ষমতা দিয়ে যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছিল, এখন তা থেকে পিছিয়ে যাওয়া মূলত শিক্ষাব্যবস্থাকে এক দশক পেছনে ঠেলে দেওয়ার নামান্তর।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের হুমকি সরকারকে কঠোর বার্তা দিচ্ছে। তাঁদের স্পষ্ট কথা—শিক্ষায় নিয়োগবাণিজ্য ফিরিয়ে আনার যেকোনো পাঁয়তারা বা অশুভ উদ্যোগ রুখে দিতে প্রয়োজনে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও শিক্ষকদের সাথে রাজপথে নামবে। এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার আগেই সরকারের উচিত পরিস্থিতি বিবেচনা করে মেধাভিত্তিক এই এনটিআরসিএ কেন্দ্রিক নিয়োগ সুপারিশ প্রক্রিয়া বহাল রাখা।