নাটোরে শতভাগ ফেল করা ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে শোকজ
ফাইল ছবি
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬ ফলাফলে নাটোর জেলায় ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাশ করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানে অংশ নেওয়া সব পরীক্ষার্থী শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে হতাশার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা।
জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লালপুর উপজেলার নন-এমপিও মোহরকয়া দাখিল মাদ্রাসা ও বিলমাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে মোট ৫ জন করে পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাশ করতে পারেনি।
বাগাতিপাড়া থেকে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান চিথলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান তমালতলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ ও বাগাতিপাড়া পৌর মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে ৪৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে কেউ পাশ করেনি।
পাশ না করা আরও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বড়াইগ্রাম উপজেলার এমপিওভুক্ত কুমারখালী দাখিল মাদ্রাসা ও নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান কুমরুল দাখিল মাদ্রাসা এবং আটুয়া কেএস দাখিল মাদ্রাসার ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর কেউ পাশ করেনি। সিংড়া থেকে দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বাহাদুরপুর দাখিল মাদ্রাসার ৫১ জন পরীক্ষার্থীর কেউ পাশ করতে পারেনি।
এ বিষয়ে কুমারখালী দাখিল মাদ্রাসার সুপার আহমাদুল্লাহ বলেন, ১৯৯৩ সালের জুন মাসে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। তারপর থেকে এ যাবত পর্যন্ত এমন ফলাফল বিপর্যয় আর কোনো বছর হয়নি। গত বছরও ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জন পাশ করেছে। এমন ফলাফলে আমরা হতাশ হয়েছি।
শোকজের সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি জানান, ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
নাটোর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুস্তম আলী হেলালী বলেন, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কেন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে প্রতি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হবে। সাথে সাথে নির্বাচনী পরীক্ষার প্রতিটি খাতা যাচাই করা হবে। প্রয়োজনে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদেরও শোকজ করা হবে।
এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুবিধ কুমার মৈত্র বলেন, শতভাগ ফেলের ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের জবাবদিহি বৃদ্ধি, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক কার্যক্রম চালু করা জরুরি। মোবাইল ফোনের আসক্তি শিক্ষার্থীদের দিন দিন পড়া লেখা থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। শিক্ষকদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সচেতন না হলে শিক্ষা নিয়ে সামনে আরও ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে।