৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৪ শিক্ষক, তবু দাখিল পাস করেনি কেউ
ফাইল ছবি
গাজীপুরে কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জ উপজেলার চারটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এর মধ্যে কালীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় মাত্র পাঁচজন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ১৪ জন, তবু ফল শূন্য।
কাপাসিয়া উপজেলার তিনটি এবং কালীগঞ্জ উপজেলার একটি মাদ্রাসায় এমন ফলাফল হয়েছে। কাপাসিয়ার তিন প্রতিষ্ঠানের মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।
কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার মেরুয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৮ জন, ইকুরিয়া সিরাজিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৬ জন এবং পাঁচুয়া দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৬ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তিন প্রতিষ্ঠানেই পাসের সংখ্যা শূন্য।
অন্যদিকে, কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর জামালপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেন। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অথচ, প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক ১৪ জন।
উত্তর জামালপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার কাজী মোহাম্মদ আবু হানিফ বলেছেন, “এ বছর মাদ্রাসা থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কেউ পাস করেনি। প্রতিষ্ঠানে মোট ১৪ জন শিক্ষক রয়েছেন।”
ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ভালো শিক্ষার্থীদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এমন ফলাফল হয়েছে।”
কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল আরিফ সরকার বলেছেন, “কাপাসিয়া উপজেলার তিনটি মাদ্রাসা থেকে মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।”
কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান বলেন, “এ উপজেলায় একটি মাদ্রাসায় ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। ইতোমধ্যে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ডাকা হয়েছে।”
গাজীপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মামুন তালুকদার বলেছেন, “গাজীপুরে চারটি মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থীই দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিটি মাদ্রাসায় চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষক রয়েছেন; শিক্ষকের কোনো ঘাটতি নেই। কী কারণে এমন ফল হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”