পুকুরে ডুবে দুই চুয়েট শিক্ষার্থীর মৃত্যু
প্রতিকি ছবি
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত দুই শিক্ষার্থীর একজন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী চমক দত্ত (২২) এবং অপরজন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের একই ব্যাচের শিক্ষার্থী শান্ত দেব (২৩)।
তারা দুজনই সিলেটের মৌলভীবাজারের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে ফুটবল খেলা শেষে চমক ও শান্ত বন্ধুদের সঙ্গে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নামেন। এক পর্যায়ে পুকুরের মাঝামাঝি অংশে সাঁতার কাটার সময় তারা পানিতে তলিয়ে যান। বিষয়টি অন্যদের নজরে এলে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযানে নামেন।
প্রায় ১০ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে চমককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও শান্তকে উদ্ধারে আরও সময় লাগে। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট পর তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুজনকে দ্রুত চট্টগ্রাম নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত ২৮ জুলাই একই পুকুরে ডুবে মারা যান চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে একই পুকুরে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, একের পর এক দুর্ঘটনা ঠেকাতে পুকুরটি সেচে ফেলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি পুকুরটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
নিহত শিক্ষার্থীদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুটি বাসের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এসব বাসে নিহতদের সহপাঠীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও যেতে পারবেন।
পরপর এমন মর্মান্তিক ঘটনায় চুয়েট ক্যাম্পাসে নেমে এসেছে শোকের আবহ। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুকুরটির বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা