ছিনতাইয়ের পর মুদি দোকানিকে হত্যা : ছিনতাইকারীর যাবজ্জীবন

ছিনতাইয়ের পর মুদি দোকানিকে হত্যা : ছিনতাইকারীর যাবজ্জীবন

ফাইল ছবি

 

দশ বছর আগে রাজধানীর সিদ্দিক বাজার এলাকায় ছিনতাইয়ের পর মুদি দোকানি আব্দুল কুদ্দুসকে হত্যার অপরাধে মাসুম মিয়া ওরফে কালু নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামি ইউনুস মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার এ রায় দেন ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পী।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল কাশেম জানান, যাবজ্জীবন সাজার পাশাপাশি মাসুমকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ওই অর্থ না দিলে তাকে আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে।

রায় ঘোষণার আগে এদিন দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন আদালত। পরে দণ্ডিত মাসুমকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য রিকশায় করে বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হন কামরাঙ্গীরচরের মুদি দোকানি আব্দুল কুদ্দুস।

ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বংশাল থানার সিদ্দিক বাজার এলাকায় পৌঁছালে দুই ছিনতাইকারী তার রিকশার গতিরোধ করেন। তারা কুদ্দুসকে ছুরিকাঘাত করে তার সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যান।

কুদ্দুসকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কুদ্দুসের চাচাতো ভাই মো. কামাল হোসেন ওইদিনই বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত করে ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর দুই আসামিকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন বংশাল থানার এসআই মো. শহীদুল ইসলাম।

২০১৭ সালের ৭ মার্চ দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য শোনেন আদালত।

আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বুধবার মাসুম মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিলেন আদালত।