আগুনে পুড়ে নিহত ৬ বাংলাদেশির মরদেহ পারিবারিক সিদ্ধান্তে দক্ষিণ আফ্রিকায় দাফন সম্পন্ন

আগুনে পুড়ে নিহত ৬ বাংলাদেশির মরদেহ পারিবারিক সিদ্ধান্তে দক্ষিণ আফ্রিকায় দাফন সম্পন্ন

সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের সমো এলাকার মা ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি সুপারশপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয় বাংলাদেশি প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বাদ জোহর কুইন্সটাউন জামে মসজিদে দুই দফায় জানাজা শেষে কুইন্সটাউনের ইজিবিলিনি মুসলিম কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

জানাজায় স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির শীর্ষ নেতা ডা. মাকাদা, বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. ইউনুস, সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ান কমিউনিটির প্রতিনিধিসহ দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন শহর থেকে আসা প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। জানাজা শেষে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

কুইন্সটাউন বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা শহিদুল হক হেলালের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং দোকান মালিকপক্ষের সহযোগিতায় দাফনের সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। মরদেহগুলোর পৃথক পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় ছয়জনকে তিনটি কবরে, প্রতি কবরে দুজন করে দাফন করা হয়।

স্থানীয় কমিউনিটি নেতা মাহমুদুর রহমান জানান, আগুনের তীব্রতায় মরদেহগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় কোনটি কার মরদেহ তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হলেও সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি মরদেহ দেশে পাঠানোর আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও জটিল হওয়ায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের সম্মতিতে দক্ষিণ আফ্রিকাতেই তাদের দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দোকান মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে মরদেহগুলো দেখে কাউকে শনাক্ত করার কোনো উপায় ছিল না। কমিউনিটি নেতা জুলফিকার আলী টুটুল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী মরদেহগুলো কঙ্কালে পরিণত হয়েছিল এবং প্রতিটি মরদেহের অবশিষ্টাংশ ছিল খুবই সামান্য। ফলে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই ভোররাতে সমো এলাকার "মা ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি" সুপারশপের আবাসিক অংশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দোকানের পেছনের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা সাত বাংলাদেশির মধ্যে নারায়ণগঞ্জের মো. ফয়সাল (২৬), মো. ফাহিম (২৯), শামীম হাসান (৩০), মোহাম্মদ আপন (২৩), নূর মোহাম্মদ (৫৫) এবং মুন্সীগঞ্জের রাজিক বেপারী (৫৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। একই ঘটনায় মো. সুমন আহত হলেও তিনি জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণ করেন।

দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফীর নেতৃত্বে দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানাজায় অংশ নেওয়া শত শত মুসল্লি নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।