আফগানদের ঐক্যের নজির ইতিহাসে নেই: মোল্লা নূরুল্লাহ নূরি

আফগানদের ঐক্যের নজির ইতিহাসে নেই: মোল্লা নূরুল্লাহ নূরি

ছবিঃ সংগৃহীত।

আফগানিস্তানে বর্তমানে যে মাত্রার জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে, দেশটির ইতিহাসে তার কোনো তুলনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের সীমান্ত, জাতি ও গোত্রবিষয়ক মন্ত্রী মোল্লা নূরুল্লাহ নূরি। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সংঘাত ও বিভাজনের পর আফগান জনগণের মধ্যে এখন অভূতপূর্ব ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) কাবুলের লয়া জিরগা হলে ২৪ আসাদ বা বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দিনটিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর এ আয়োজন করে আসছে ইমারাতে ইসলামিয়া।

নূরি বলেন, আফগানদের মধ্যে বর্তমানে যে জাতীয় সংহতি দেখা যাচ্ছে, অতীতের কোনো সময়ের সঙ্গে তার তুলনা করা যায় না। তাঁর ভাষ্য, ক্ষমার একটি সাধারণ ডিক্রি জারির মাধ্যমে জাতিগত, আঞ্চলিক ও ভাষাগত বিভাজনের অবসান ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে দেশের অভ্যন্তরে ঐক্য আরও শক্তিশালী হয়েছে।

বিদেশে অবস্থানরত আফগানদের একাংশের স্বাধীনতার দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নূরি। তিনি বলেন, যারা এখন আফগানিস্তানের স্বাধীনতার কথা বলছেন, বিদেশি বাহিনীর প্রায় দুই দশকের উপস্থিতির সময় তারা কোথায় ছিলেন—এ প্রশ্নের উত্তর তাদের দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তানের জনগণ যদি নিরাপত্তা ও ইসলামি শাসনব্যবস্থা চায়, তাহলে বর্তমান সরকার দেশটিতে এ দুটি বিষয়ই প্রতিষ্ঠা করেছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘ যুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতার পর আফগানিস্তানে এখন নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তালেবান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো, ২০২১ সালের পর আফগানিস্তানের অধিকাংশ এলাকায় যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাতের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা একই সময়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি, বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জনজীবনে অংশগ্রহণের ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন আফগান সরকারের পতনের পর তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার সম্পন্ন করে। প্রায় ২০ বছর ধরে চলা মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের অবসান ঘটে ওই সময়। তালেবান এ ঘটনাকে বিদেশি দখলদারিত্বের অবসান ও নিজেদের বিজয় হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে।

ইমারাতে ইসলামিয়া ২০২২ সাল থেকে ১৫ আগস্টের ঘটনাকে ‘ফাতাহ’ বা বিজয় দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করছে। আফগান সৌরবর্ষের হিসাবে ১৫ আগস্ট দিনটি ‘২৪ আসাদ’ হওয়ায় অনুষ্ঠানটি ‘২৪ আসাদ দিবস’ নামেও পরিচিত। এবারের আয়োজনে তালেবান সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন এবং ২০২১ সালের ক্ষমতা পরিবর্তনকে জাতীয় স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।

তালেবান সরকার গত পাঁচ বছরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চীন, রাশিয়া, ইরান, পাকিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে কাবুলের যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও সম্প্রসারিত হয়েছে। তবে তালেবান সরকারের আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এখনো সীমিত।