তৃণমূল কার্যালয়ে মিলল ভারতের সাবেক ডেপুটি স্পিকারের ঝুলন্ত মৃতদেহ

তৃণমূল কার্যালয়ে মিলল ভারতের সাবেক ডেপুটি স্পিকারের ঝুলন্ত মৃতদেহ

ছবিঃ সংগৃহীত।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে বীরভূম জেলার রামপুরহাটের হাততালাপাড়ায় নিজের বাড়ির পাশে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় রামপুরহাট বিধানসভা আসন থেকে ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার বিধায়ক নির্বাচিত হন। তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় তিনি স্কুলশিক্ষা ও কৃষি দপ্তরের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার ছিলেন।

পুলিশ সূত্র ও বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধার হয়েছে, যেটিকে প্রাথমিকভাবে কথিত ‘সুইসাইড নোট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চিঠিটির সত্যতা এবং এর বিষয়বস্তু পুলিশ যাচাই করছে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এটিকে চূড়ান্ত আত্মহত্যার নোট হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই চিঠিতে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার কথা লিখেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ এবং পরিবারের তরুণ সদস্যদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়ার কথা এসেছে। তিনি নিজেকে কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন বলেও চিঠিতে দাবি করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (টিআরডিএ) কার্যক্রম নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন বলে জানা গেছে। সেখানে টেন্ডার, চেক স্বাক্ষর, নকশা অনুমোদন বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) দেওয়ার মতো বিষয়ে তাঁর কোনো কর্তৃত্ব ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

গত জুনে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে দলের সাধারণ সদস্য হিসেবে তিনি ছিলেন। এর পর ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রামপুরহাট আসনে বিজেপির ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন তিনি।

তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রামপুরহাটের দলীয় কার্যালয়ের সামনে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে। রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে মৃত্যুর পেছনে ঠিক কী কারণ ছিল, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়া