নাঙ্গলকোটে চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত
সংগৃহীত ছবি
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১টি অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বিপরীতে ছয়টি পদই শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে কর্মরত পাঁচ চিকিৎসককে বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তি এবং আরও তিনজন আছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। এ অবস্থায় সাত চিকিৎসক দিয়ে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও গোহারুয়া ২০ শয্যা হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা।
শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই নয়, উপজেলার বিভিন্ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও রয়েছে চিকিৎসক সংকট। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আরও পাঁচ চিকিৎসককে বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন ও উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক না পেয়ে অনেক রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই রোগীর চাপ বাড়ছে। সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগী সামলাতে গিয়ে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের।
উপজেলার পেরিয়া ইউনিয়ন চাঁন্দপুর গ্রামের সারমিন আক্তার বলেন, সকাল ৯টায় হাসপাতালে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে ডাক্তার না দেখিয়ে বাসায় চলে যাই।
চিকিৎসক সংকটের কারণে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, চিকিৎসকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তিতে থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। সংযুক্তিতে থাকা চিকিৎসকদের সংযুক্তি বাতিল করে নাঙ্গলকোটে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভাগীয় পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সারোয়ার রেজা বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে চিকিৎসকদের সংযুক্তি দেওয়া হয়। নাঙ্গলকোট থেকে যেসব চিকিৎসক সংযুক্তিতে রয়েছেন, তাদের বেশিরভাগকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে সংযুক্তির নির্দিষ্ট কারণ জানা নেই।