রাজশাহীতে চলন্ত ট্রেন থেকে তেল চুরি
সংগৃহীত ছবি
রাজশাহীর হরিয়ান রেলওয়ে স্টেশনে চলন্ত ট্রেনের ওয়াগন থেকে তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ‘ঢাকা মেইল সিক্স ডাউন’ ট্রেনের পেছনে ঈশ্বরদীতে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্ত করা ওয়াগন থেকে ওয়েম্যানসহ সাতজন তেল চুরি করেন। বিষয়টি পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের কন্ট্রোলরুমের নজরে এসেছে। নিরাপত্তাকর্মীরা বলছেন, তেল নেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।
রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে আন্তনগর ঢাকাগামী ট্রেনগুলোর পাওয়ারকারে তেল দেওয়ার জন্য ওয়াগনগুলো নিয়ে আসা হয়েছিল। তেল দেওয়ার পর দুটি ওয়াগন ‘ঢাকা মেইল সিক্স ডাউন’ ট্রেনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সেগুলো আবার ঈশ্বরদীতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। লোকাল ট্রেন হওয়ায় হরিয়ান স্টেশনে ট্রেনটি যাত্রাবিরতি দেয়। যাত্রাবিরতির মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে ওয়াগন থেকে তেল চুরির ঘটনা ঘটে। তবে কতটুকু তেল চুরি হয়েছে, তা সঠিকভাবে জানা যায়নি।
হরিয়ান স্টেশন এলাকার স্থানীয়রা জানান, তেল চুরির ঘটনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে হরিয়ান স্টেশন এলাকায় তেল চুরির ঘটনা ঘটছে। বেশির ভাগ সময় রাতে এসব ঘটনা ঘটে। কখনো কখনো দিনেও চুরি হয়। মঙ্গলবার তেল চুরির সময় অন্যদের মধ্যে ছিলেন ওয়েম্যান কিরন আলী, তাঁর ভাই নয়ন ও মিলন। তাঁরা ওয়াগনে উঠে জার, বোতল ও জগে করে তেল নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে পড়েন।
হরিয়ান স্টেশনে ট্রেন থেকে তেল চুরির ১ মিনিট ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে হরিয়ান রূপসীডাঙ্গার রিপন, হরিয়ান সাজিপাড়ার নাহিদ, হরিয়ান বাজারের আলামিন, হরিয়ান রেলওয়ে স্টেশন এলাকার কিরন, রক্সি ও মিলনকে দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ নিচে ছিলেন, আবার কেউ কেউ ওয়াগনের ভেতরে ছিলেন।
ভিডিওটির শুরুতে দেখা যায়, কিরন মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় একটি সাদা বস্তা নামিয়ে দিচ্ছেন। সেই বস্তা তিনজন মিলে নিচ্ছেন। তাঁদের একজনের হাতে ব্যাগ ছিল। ট্রেন এগিয়ে গেলে তাঁরা দ্রুত রেললাইনের কাছ থেকে সরে যান। ব্যাগ নিয়ে তাঁদের হাঁটার ধরন দেখে বোঝা যায়, ব্যাগে ওজনদার কিছু ছিল। এরপর কিরন আবার ওয়াগনে উঠে যান। সেখানে কিরন ছাড়া আরও তিনজন ছিলেন। তাঁরা ওয়াগন থেকে তেল বের করছিলেন।
ট্রেন যাত্রা শুরু করলে ওয়াগন থেকে দুজন দ্রুত নেমে পড়েন। কিরন ও আরও একজন ওয়াগনে থেকে যান। এরপর তাঁরা একটি ছোট বালতি নিচে ফেলে দেন। ট্রেন চলতে থাকায় নীল রঙের টি-শার্ট পরা এক যুবক পেছন পেছন দৌড়ে আসছিলেন। এ সময় তেলভর্তি একটি জার নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়। দৌড়ে আসা ওই যুবক মাটি থেকে জারটি তুলে নেন। তখনও কিরনসহ আরও একজন যুবক ওয়াগনের ওপরে ছিলেন। পরে ওই যুবক চলন্ত ট্রেনের কাছ থেকে সরে গেলেও কিরন ওয়াগনে থেকে যান। সবশেষে কিরন একটি জগে করে তেল নিয়ে দ্রুত নেমে পড়েন।
তবে তেল নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওয়েম্যান কিরন আলী। তিনি বলেন, তেল নেওয়ার ঘটনায় তাঁর মতো তাঁর ছোট ভাই নয়নও ছিলেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন এলাকায় কাজ করছিলেন। তাঁর ছোট ভাইসহ অন্যরা তেল চুরি করেছেন। তবে কিরন বলেন, বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য মেট কামরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।
হরিয়ান স্টেশন মাস্টার আরিফ হোসেন বলেন, ‘ঢাকা মেইল সিক্স ডাউন’ ট্রেন হরিয়ান স্টেশনে মাত্র তিন মিনিট দাঁড়ায়। তখন পাবনা থেকে ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেন আসছিল। ওই ট্রেন ক্রসিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। কারণ ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনে রেলওয়ের কর্মকর্তারা ছিলেন। ঢাকা মেইল সিক্স ডাউন ছেড়ে দেওয়ার সময় চিৎকার শুনতে পাই। বাইরে এসে দেখি, তিনজন ছেলে ট্রেনের সঙ্গে দৌড়াচ্ছে। পরে কন্ট্রোলরুম থেকে ফোন করে জানানো হয়, ওয়াগন থেকে তারা কিছু নামিয়েছে। আসলে সেগুলো দেখভালের দায়িত্বে আরএনবি ও জিআরপি পুলিশ আছে। তারাই বিষয়টি ভালো বলতে পারবে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের (আরএনবি) চিফ কমান্ড্যান্ট আশাবুল ইসলাম বলেন, আইনগত পদক্ষেপ নিতে ফোর্স পার্টি ঘটনাস্থলে ছিল। তবে তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। ভিডিওটি দেখেছি, তাদের চেনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে মামলা হবে। তাদের আটকের অভিযান অব্যাহত আছে।