মাছ চুরির অপবাদে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে পেটানো, ব্যবস্থা নিতে আদালতের নির্দেশ

মাছ চুরির অপবাদে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে পেটানো, ব্যবস্থা নিতে আদালতের নির্দেশ

প্রতীকী ছবি

বরগুনায় মাছ চুরির অপবাদে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে লাঠি দিয়ে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত মাছ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মারধরের ভিডিও আদালতের নজরে আসার পর মঙ্গলবার স্বপ্রণোদিত হয়ে এ নির্দেশ দেন বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান।

মারধরের শিকার নারী সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের মাইঠা গ্রামের মোসা. জানু বেগম। অভিযুক্ত মাছ ব্যবসায়ী মো. ছালামও একই গ্রামের বাসিন্দা।

রোববার বরগুনা পৌর মাছ বাজারে মাছ চুরির অভিযোগ তুলে জানু বেগমকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন ছালাম। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, পৌর মাছ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. রফিক হোসেনের দোকানে চেয়ারে বসেছিলেন জানু বেগম। এ সময় ছালাম লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে উপস্থিত কয়েকজন তাকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

ঘটনার পর সোমবার বাজারের ব্যবসায়ীরা সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। সেখানে ছালাম ওই নারীর কাছে ক্ষমা চান এবং তাঁর চিকিৎসার জন্য এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে মারধরের ভিডিও আদালতের নজরে আসার পর মঙ্গলবার স্বপ্রণোদিত হয়ে বরগুনা সদর থানাকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

বরগুনা পৌর মাছ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. রফিক হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি আমার দোকানে বসে ঘটেছে। তখন আমি দোকানে ছিলাম না। ঘটনাটি অত্যন্ত জঘন্য। পরে বাজারের ব্যবসায়ীদের নিয়ে সালিশ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে।’

অভিযুক্ত ছালাম বলেন, ‘আমার দোকান থেকে মাছ চুরি করছিল। তাই আমি তাকে মেরেছিলাম। তবে এমন কাজ করা আমার উচিত হয়নি। বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।’

বরগুনা সদর থানার ওসি আবু সাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে মারধরের ঘটনায় আদালতের নির্দেশনা পেয়েছি। নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’