‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইটি প্রত্যেকেরই পড়া উচিত: নজরুল ইসলাম খান

‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইটি প্রত্যেকেরই পড়া উচিত: নজরুল ইসলাম খান

সংগৃহীত ছবি

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করার জন্য ও নিজেদের চিন্তা চেতনাকে শাণিত করার জন্য মারুফ কামাল খানের ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইটি  প্রত্যেকেরই পড়া উচিত। আমার ধারণা এই বইটি কালোত্তীর্ণ হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সাংবাদিক মারুফ কামাল খান রচিত ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’র মোড়ক উন্মোচনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।  

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন।

প্রকাশনা সংস্থা সূচিপত্রের প্রধান নির্বাহী সাঈদ বারীর সভাপতিত্বে প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।  

বইটি নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, প্রকাশনা সংস্থা আবিষ্কারের স্বত্তাধিকারী দেলোয়ার হাসান প্রমুখ।     

এ সময় নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই বইটি একবার পড়েছি, আরও একবার পড়বো। এই বইটা না পড়া পর্যন্ত রাজনীতির অন্দরের অনেক কিছুই জানা যাবে না। এ দেশের রাজনীতিতে যারা নন্দিত তাদের জন্য কথা বলার অনেক লোক আছে, কিন্তু যারা নিন্দিত তাদের কথা বলার লোক নেই। মারুফ কামাল খান তার বইতে জীবনের ও রাজনীতির কিছু ভালো দিক তুলে ধরেছেন। তার লেখনীতে মারুফ কামাল খান বুঝিয়েছেন তিনি সাধারণ নয় অসাধারণ।  যাদেরকে ভুলে যাওয়া হয়েছিল বা যাদেরকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল মারুফ কামাল খান তার এই বইতে তাদেরকে তুলে ধরেছেন। এই বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় আপনাকে ভাবতে শেখাবে। এই বইটি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইটিতে মারুফ কামাল খান তার স্মৃতি ও সত্য ঘটনাগুলো যেভাবে শৈল্পিকভাবে তুলে ধরেছেন তা থেকে জ্ঞান আহরণ করা নির্ভর করবে পাঠকের শ্রেণীভেদের উপর। ইতিহাসের পন্ডিতরা যেভাবে বুঝবেন ইতিহাসের স্বল্পজ্ঞানীরা বইটি ঠিক তেমনভাবেই বুঝবেন। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রবাহমান ধারা যেভাবে আবর্তিত হয়েছে সেই বিষয়গুলোও এই বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। মানবজগতের বিচিত্র চরিত্রগুলো সামনে নিয়ে এসেছেন। তা কখনো কখনো সুকুমার বৃত্তি ও কখনো কখনো এর বিপরীত। 

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আমরা এখন বইয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে  ফেলেছি। বই পড়ার অভাবে আমাদের মানসিকতা নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা ভয়ংকর অন্ধকার যুগে ধাবিত হচ্ছি৷ অন্ধকার যুগ থেকে আলোর পথে ধাবিত হওয়ার জন্য বই পড়া জরুরি। মারুফ কামাল খানের এই বইটি আমাদের রাজনীতির অঙ্গনে নতুনমাত্রা যোগ করবে বলেই আমি মনে করি। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে বইটি সারাদেশের সকল লাইব্রেরিতে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এসময় মন্ত্রী মঞ্চে উপস্থিত জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।  

সালেহ শিবলী বলেন, ইতিহাসের চলমান চিত্র ফুটে উঠেছে বইটিতে। এই বই পড়লে আমাদের রাজনৈতিক মনোজগতে বিরাট পরিবর্তন আসবে বলে আমি মনে করি। 

সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ বলেন, জ্ঞান ও মেধা, মননের চর্চা না হয়, লেখার স্বাধীনতা না থাকে তাহলে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো না। যে সংবিধান বাহাত্তর সালে রচনা করেছিলাম সেই সংবিধান ছুঁড়ে ফেলার কথা যখন বলা হয় তখন সেটা মানতে খুবই কষ্ট হয়। আমরা এখনো ‘আমিত্ব’ শব্দে আটকে আছি। আমিত্বর সঙ্গে থাকে গর্ব, অহংকার ও দম্ভ। ‘আমিত্ব’ থেকে বের হয়ে যেদিন ‘আমরা’য় ফিরে আসতে পারবো সেদিনই আমাদের সফলতা আসবে। 

আফসানা বেগম বলেন, মারুফ কামাল খান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন, তার রাজনীতির উত্থান পতন দেখেছেন। এই বইটি পড়ে আমরা রাজনীতির অনেক বিষয় জানতে পারবো এবং সমৃদ্ধ হতে পারবো বলে আশা করছি। 

দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, মারুফ কামাল খানের অবজারভেশন সাংবাদিকতার অবজারভেশন। দেশনেত্রীর সঙ্গে মারুফ কামাল খানের যেই বিস্তর অভিজ্ঞতা এটা খুব কম মানুষেরই আছে। তিনি দেশনেত্রীকে যতটা কাছ থেকে দেখেছেন এবং তার সম্পর্কে জেনেছেন এরকম সৌভাগ্য খুব মানুষেরই হয়েছে। আর এই বইতে তার রাজনীতির বহুমুখী অভিজ্ঞতা স্থান পেয়েছে। আমরা যতবার সোশ্যাল ইতিহাস ও রাজনীতির কথা বলতে যাব ততবারই মারুফ কামাল খানের এই বইটা আমাদের কাজে লাগবে। মারুফ কামাল খান অসাধারণ লেখনী দিয়ে বইটিকে উপভোগ্য করে তুলেছেন। 

কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘লেখা যে এত দারুণভাবে টানে মারুফ কামাল খানের এই বইটি না পড়লে আমি বুঝতাম না। বাংলাদেশের রাজনীতির ভেতরের ও বাইরের নানা আকর্ষণীয় তথ্য এই বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। সাএবক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি বিবৃতি দিয়েই এই বইটির প্রথম লেখা। শেখ হাসিনাকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখন আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন একটা কড়া বিবৃতি দিয়ে দাও। তখন এই বিবৃতি দেওয়া হয়। সেদিন শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের পর প্রথম প্রতিবাদ করেছিলো বেগম খালেদা জিয়া। আর সেই বিবৃতিই এই বইতে সবার আগে স্থান পেয়েছে। সভ্যতা শিখতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার কাছে শিখতে হবে, সভ্যতা শিখতে হলে তারেক রহমানের কাছে শিখতে হবে।’  

অনুভূতি প্রকাশে লেখক মারুফ কামাল খান বলেন, আপনারা বিচারক আমি পাঠকের কাঠগড়ায়। আমি অভিভূত ও উচ্ছসিত। আপনাদের এই ভালোবাসা অব্যাহত থাকলে আমি ভবিষ্যতে আরো লেখার অনুপ্রেরণা পাব।