প্রিমিয়ার লিগে আগ্রহ নেই হ্যারি কেইনের

প্রিমিয়ার লিগে আগ্রহ নেই হ্যারি কেইনের

হ্যারি কেইন

ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ লিগে ২১৩টি গোল করার পর ২০২৩ সালে টটেনহ্যাম ছেড়ে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিয়েছিলেন হ্যারি কেইন। ইংলিশ তারকাকে ৮৬.৪ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে চার বছরের চুক্তিতে দলে ভেড়ায় ক্লাবটি। সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর এক বছর বাকি রয়েছে।

এরই মধ্যে বায়ার্নের সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি। গত মৌসুমে সব মিলিয়ে তিনি ৭৩টি গোল করেছেন হ্যারি কেইন। বর্তমানে অ্যালান শিয়ারারের ২৬০ গোলের রেকর্ড থেকে তিনি তখন ৪৭ গোল পিছিয়ে আছেন।

তবে হ্যারি কেইন বলেছেন, জার্মানি থেকে একদিন ইংল্যান্ডে ফিরে প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ভাঙার সেই তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা তাগিদ এখন আর তার মধ্যে আগের মতো নেই। বুধবার (১৯ আগস্ট) বুন্দেসলিগায় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ‘গোল্ডেন শু’ পাওয়ার পর ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বায়ার্নে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যময় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

কেইন বলেন, শুরুতে যখন আমি চলে এসেছিলাম, তখন নিশ্চিতভাবেই ভেবেছিলাম আমি অবশ্যই ফিরে আসব। কিন্তু সেই তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা তাগিদ এখন আর আগের মতো নেই। মিউনিখে আমি অত্যন্ত সুখী। এটি আমাকে ইংল্যান্ডের বাইরের ফুটবলের এক সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতের সঙ্গে পরিচিত করেছে এবং ইউরোপীয় ফুটবলের প্রতি আমার শ্রদ্ধাবোধ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই মিডফিল্ডার বলেন, আমাদের বর্তমান দল ও কোচ সব মিলিয়ে এবং আমার পরিবার এখানে খুব ভালোভাবে মানিয়ে নেওয়ায় মনে হচ্ছে, আমি সম্ভবত সেরা জায়গাতেই আছি। কখনোই কখনোই না বলা উচিত নয়, তবে আপাতত আমি বায়ার্ন মিউনিখের ওপরই মনোযোগ দিচ্ছি এবং দেখা যাক ভবিষ্যতে কী হয়।

গত মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে ৫১টি ম্যাচে ৬১টি গোল করেছেন কেইন; সেই মৌসুমে ভিনসেন্ট কম্পানির দল লিগ ও কাপ উভয় শিরোপাই জয় করে। ২০২৪ সালে বায়ার্নের দায়িত্ব নেন কম্পানি। কেইন মনে করেন, ম্যানচেস্টার সিটির এই সাবেক ডিফেন্ডারই তার খেলাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, আমার মনে হয়, নিঃসন্দেহে এটিই আমার সেরা সংস্করণ। গত মৌসুমের পারফরম্যান্সই এর প্রমাণ; নিঃসন্দেহে বলা যায়, এটি আমার ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম। কোচ আসার পর থেকে তিনি আমার খেলাকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এর পেছনে রয়েছে আমাদের খেলার ধরন আক্রমণ ও রক্ষণভাগের কৌশল এবং খেলোয়াড়দের দেওয়া স্বাধীনতা কাজে দিয়েছে।

এই ফুটবলার আরও বলেন, টটেনহ্যামে খেলার সময়ও আমি এমন বিভিন্ন পজিশনে খেলেছি। বিশেষ করে মরিনহোর সময় থেকে বিষয়টি এমনই ছিল, নিচে নেমে বল সংগ্রহের স্বাধীনতা আমার ছিল এবং সন হিউং-মিনের সঙ্গে আমার দারুণ বোঝাপড়া গড়ে উঠেছিল। ধীরে ধীরে আমার খেলার উন্নতি হচ্ছিল ঠিকই, তবে বর্তমান দল, সতীর্থ খেলোয়াড় এবং কোচের কৌশলের কারণে এই মৌসুমে আমি যেন নিজেকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পেরেছি।