তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রধান শিক্ষক
সংগৃহীত ছবি
শ্রেণিকক্ষে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে উপজেলার ব্রাহ্মণখাড়া বটতলা বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার শিক্ষকের নাম মো. খোরশেদ আলম (৫০)। তিনি উপজেলার ব্রাহ্মণখাড়া গ্রামের মৃত শব্দর আলীর ছেলে এবং ব্রাহ্মণখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
গত ২৬ জুলাই দুপুরে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের ১১৫ নম্বর ব্রাহ্মণখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির পাঠদানকালে এক শিক্ষার্থীর (১০) স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে উত্ত্যক্ত করার ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষার্থী ঘটনাটি তার মায়ের কাছে খুলে বলে।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ওই দিন বিকেলে শিক্ষক খোরশেদ আলমকে স্কুল থেকে তুলে নিয়ে বেধরক মারধর করা হয়। সন্ধ্যার পর দ্বিতীয় দফায় আবারও ব্রাহ্মণখাড়া বটতলা বাজারে বেধরক মারধর করে হাত বেঁধে এলাকার ফনিন্দ্র চক্রবর্তীর চা দোকানে আটকে রাখে। বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষক খোরশেদ আলমের অনৈতিক কাজের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
সংবাদ পেয়ে ওইদিন রাত ১১টায় দেবীদ্বার থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিক্ষককে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
ওই ঘটনায় অভিযুক্ত খোরশেদ আলমের ছেলে আরিফ বাদী হয়ে ১০ জনের নামসহ অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। শিক্ষক খোরশেদ আলমের উপর হামলার প্রতিবাদে উপজেলা শিক্ষক সমিতির নেতাদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়।
অপরদিকে, ভুক্তভোগীর দাদা বাদী হয়ে একই দিন খোরশেদ আলমকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতনের দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২২ ধারায় ভুক্তভোগীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
এদিকে হামলা, মারধর ও টাকা লুটের ঘটনায় অভিযুক্ত খোরশেদ আলমের ছেলে আরিফ কর্তৃক দায়ের করা মামলার সব আসামি গত ৯ আগস্ট আদালত থেকে জামিনে আসেন।
উল্লেখ্য, ঘটনার দিন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ধারণ করা সাক্ষাৎকারের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় তীব্র সমালোচনার ও নিন্দার ঝড় উঠে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমি আর কখনো এমনটা করব না। এমনকি জুয়া খেলব না। অন্যদিকে ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলতে শোনা যায়, স্যার একাধিকবার আমার বুকে হাত দিয়েছে, আমি বার বার হাত সরিয়ে দিলেও স্যার একই কাজ করেন। স্যার প্রাইভেট পড়তে বলেন, আমি রাজি হইনি। স্যার বলেছেন, আমি তোমাকে আদর করেছি, এ কথা কাউকে বলবে না, তাহলে আমার সম্মান থাকবে না।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাদার দায়ের করা মামলার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক খোরশেদ আলম পলাতক ছিলেন। গত ৩/৪ দিন ধরে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সংবাদে একাধিক অভিযানে তাকে পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিদ্যালয় ছুটির পর ব্রাহ্মণখাড়া বটতলা বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।