আল্লাহর সর্বব্যাপী জ্ঞানের চার পর্যায়

আল্লাহর সর্বব্যাপী জ্ঞানের চার পর্যায়

প্রতিকী ছবি

আল্লাহ তাআলা দৃশ্য-অদৃশ্য সবকিছু সম্পর্কে অবগত। প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব বিষয় তাঁর জ্ঞানের মধ্যে আছে। এ কারণেই আল্লাহ নিজের সম্পর্কে বলেছেন : ‘তিনি গায়েব ও প্রকাশ্য সবকিছুর জ্ঞানী; তিনি মহান, সর্বোচ্চ।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ৯)

মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘তারা কি জানে না যে আল্লাহ তাদের গোপন বিষয় এবং তাদের গোপন পরামর্শ সম্পর্কেও অবগত এবং আল্লাহ সব গায়েবের জ্ঞান রাখেন?’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৭৮)

আল্লাহর জ্ঞানের ব্যাপকতা

আল্লাহ তাআলার জ্ঞান এমন যে অন্ধকারের মধ্যে থাকা ক্ষুদ্র একটি বীজ বা দানার খবরও তিনি জানেন। মাটিতে পড়ে যাওয়া প্রতিটি পাতার খবর তিনি জানেন। কোনটি সতেজ ও কোনটি শুকনা-তাও তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়। সমুদ্রের পানির পরিমাণ ও তার অসংখ্য হিসাব তাঁর জানা। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটার সংখ্যা তাঁর জানা। পাহাড়ের অতি ক্ষুদ্র ওজনের হিসাবও তাঁর জানা। বালুকণার সংখ্যাও তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়।

অর্থাৎ ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর এবং বৃহৎ থেকে বৃহত্তম-সবকিছুই আল্লাহর জ্ঞানের সম্পূর্ণ আওতাভুক্ত।

আল্লাহ বলেন, ‘আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অণু পরিমাণ কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে নয়; এর চেয়েও ক্ষুদ্র অথবা বৃহৎ কোনো কিছুই নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই।’ (সুরা : সাবা, আয়াত : ৩)

আল্লাহর ইলমের চারটি পর্যায়

প্রথম পর্যায় : কোনো কিছু সৃষ্টি হওয়ার আগেই আল্লাহর জ্ঞান অর্থাৎ কোনো বস্তু বা ঘটনা অস্তিত্ব লাভ করার আগেই আল্লাহ তা জানেন। এটি আল্লাহর বিশেষ জ্ঞান, যা তাঁর সৃষ্টির কেউ স্বাধীনভাবে জানে না।

এই পর্যায়কে বলা হয়েছে জ্ঞান ও তাকদিরের পর্যায়-ভবিষ্যতে কী হবে, কার পরিণতি কী হবে, কারা জান্নাতে যাবে এবং কারা জাহান্নামে যাবে-এসব আল্লাহ অনাদিকাল থেকেই জানেন।

আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই কিয়ামতের জ্ঞান আল্লাহর কাছেই রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি জানেন গর্ভাশয়ে কী আছে। কোনো প্রাণী জানে না যে আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কোনো প্রাণী জানে না যে কোন ভূমিতে তার মৃত্যু হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্বাধিক অবহিত।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ৩৪)

দ্বিতীয় পর্যায় : লওহে মাহফুজে লিখিত অবস্থায় আল্লাহর জ্ঞান অর্থাৎ আল্লাহ কোনো বিষয় সংঘটিত হওয়ার আগে তা লওহে মাহফুজে লিখে রেখেছেন। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ আকাশ-পৃথিবী সৃষ্টি করার ৫০ হাজার বছর আগে সৃষ্টিজগতের তাকদির লিখে রেখেছেন।

লওহে মাহফুজে সৃষ্টিজগতের বিষয়গুলো লিখিত রয়েছে। সেগুলো কখন এবং কিভাবে বাস্তবায়িত হবে তা আল্লাহর ইচ্ছা ও নির্ধারণ অনুযায়ী। আল্লাহ বলেন, ‘তুমি কি জানো না যে আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন? নিশ্চয়ই এসব একটি কিতাবে রয়েছে। নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর জন্য সহজ।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৭০)

তৃতীয় পর্যায় : কোনো বিষয় সংঘটিত হওয়ার সময় আল্লাহর জ্ঞান অর্থাৎ কোনো ঘটনা যখন বাস্তবে সংঘটিত হচ্ছে, তখনো আল্লাহ তার প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। আল্লাহ বলেন, ‘তিনি জানেন পৃথিবীতে যা প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে বের হয়, আকাশ থেকে যা অবতীর্ণ হয় এবং যা তাতে আরোহণ করে। আর তিনি পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল।’ (সুরা : সাবা, আয়াত : ২)

অর্থাৎ কোনো কিছু ঘটার মুহূর্তেও আল্লাহর জ্ঞান থেকে তা একটুও আড়াল হয় না।

চতুর্থ পর্যায় : কোনো বিষয় সংঘটিত হওয়ার পরও আল্লাহর জ্ঞান। এটি হলো কোনো বিষয় সৃষ্টি ও সংঘটিত হওয়ার পরও আল্লাহ তার পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। আল্লাহ বলেন, ‘আর তাঁর কাছেই গায়েবের চাবিকাঠি; তিনি ছাড়া কেউ তা জানে না। স্থল ও সমুদ্রে যা কিছু আছে তিনি তা জানেন। কোনো পাতা ঝরে না, কিন্তু তিনি তা জানেন। পৃথিবীর অন্ধকারে কোনো দানা নেই, কোনো সিক্ত বা শুষ্ক বস্তু নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৫৯)

এখানে বোঝা যায়, মানুষ কাজ করার পরও তার প্রতিটি কাজ আল্লাহর জ্ঞানের মধ্যে থাকে।

মূল কথা হলো আল্লাহর জ্ঞান সর্বব্যাপী ও পূর্ণাঙ্গ। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—কোনো কিছুই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়। তিনি কোনো কিছু ঘটার আগে জানেন, ঘটার সময় জানেন এবং ঘটে যাওয়ার পরও তা সম্পূর্ণভাবে জানেন। তাঁর জ্ঞান অর্জিত বা নতুন করে সৃষ্টি হওয়া জ্ঞান নয়; বরং তিনি চিরকাল থেকেই সর্বজ্ঞ।