জলপাইগুঁড়িতে স্ত্রীকে হত্যার পর কীটনাশক খেয়ে স্বামীর আত্মসমর্পণ

জলপাইগুঁড়িতে স্ত্রীকে হত্যার পর কীটনাশক খেয়ে স্বামীর আত্মসমর্পণ

প্রতিকী ছবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুঁড়িতে ধারালো বস্তুর আঘাতে স্ত্রীকে হত্যার পর এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।তবে, চমকপ্রদ ব্যাপার হচ্ছে, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের আগে ওই ব্যক্তি কীটনাশক খেয়েছিলেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তার নিজের মায়ের ওপরও হামলা চালান।

জানা যায়, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সকালে জাহাঙ্গীর আলম নামে ওই ব্যক্তি তার স্ত্রী রোখসানা বেগমের সঙ্গে তর্কে জড়ান। এক পর্যায়ে রাগের বশবর্তী হয়ে তিনি রোখসানাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় জাহাঙ্গীরের মা তাকে থামাতে এলে নিজের মাকেও আহত করেন জাহাঙ্গীর। তবে, জাহাঙ্গীরের মা গুরুতর আঘাত পেলেও ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন।

জাহাঙ্গীরের বাড়িতে এ ঘটনার সময় বাকবিতণ্ডার আওয়াজ পেয়ে স্থানীয় অনেকে দ্রুত সেখানে যান। তবে, গুরুতর আহত রোখসানা ততক্ষণে মারা গেছেন।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর সঙ্গে সঙ্গেই কীটনাশক খান এবং এরপর ধূপগুঁড়ি পুলিশ স্টেশনে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর এবং নিহত রোখসানা তিন বছর আগে বিয়ে করেন। তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, সম্প্রতি বেশ কয়েকদিন ধরেই জাহাঙ্গীর-রোখসানা দম্পতির মধ্যে নিয়মিতই কলহ লক্ষ্য করা যেত। জাহাঙ্গীর নেশাজাতীয় কিছু সেবন করতেন, যে কারণে প্রায়ই তাদের বাসায় কথা-কাটাকাটি হতো। জাহাঙ্গীর নিজের স্ত্রীকে নির্যাতনের পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দাদের হুমকি দিতেন বলেও জানান প্রতিবেশীরা।

নিহত রোখসানার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। জাহাঙ্গীরের মা-কে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।