খোয়াই নদীর বাঁধে ফের ভাঙন
সংগৃহীত ছবি
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাঁধে দেড় মাসের মাথায় আবারও ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে প্রবল বেগে লোকালয়ে প্রবেশ করছে পানি। রবিবার সকাল ১১টার দিকে বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়।
এরপর থেকেই চরহামুয়া, লস্করপুর, সুঘর, বনগাও, বনদক্ষিনসহ আশপাশের গ্রামে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। গ্রামের ভেতরের রাস্তা ঘাট, ফসলি জমি ও সবজি বাগান তলিয়ে গেছে। এছাড়াও ধুলিয়াখাল মিরপুর সড়কেও পানি উঠে গেছে। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে যান চলাচলে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
স্থানীয়রা বলছেন- যেভাবে ভাঙন কবলিত এলাকা দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে এভাবে চলতে থাকলে ৩০ থেকে ৩৫টি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এর আগে গত ৯ জুলাই রাতে একই বাঁধ ভেঙ্গে অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। সে সময় মাছের ঘের, ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে শত কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েন ওই এলাকার বাসিন্দারা। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮২ লাখ টাকা ব্যায়ে বাঁধ মেরামত শুরু করলেও এতে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ- বাঁধ সংস্কার কাজে অনিয়ম ও ধীরগতির কারণেই আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে। আর এর ফলে দ্বিতীয় দফায় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। তারা বলছেন- ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে হাওরের সদ্য লাগানো রোপা আমন ধানের বেশি ক্ষতি হবে।
জানা গেছে- উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এক পর্যায়ে সকাল ১১টার দিকে প্রবল বেগে আসা পানির চাপে খোয়াই নদীর কালীগঞ্জ অংশে বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এরপর থেকে দ্রুত বেগে লোকালয়ে ঢুকছে পানি। নদীর পানি চরহামুয়া, লস্করপুর, সুঘর, বনগাও, বনদক্ষিনসহ আশপাশের গ্রামে প্রবেশ করছে। যে কারণে আশপাশের অন্য গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরই মধ্যে বাড়ি ঘরে পানি উঠা বাসিন্দাদের আসবাবপত্রসহ দৈনন্দিক জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে দেখা গেছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ৯ জুলাই বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় পর ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। দীর্ঘ ৪৩ দিন অতিবাহিত হলেও কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কাজে ধীরগতি ও অনিয়মের ফলেই নদীতে পানি আসা মাত্রই বাঁধটি পুনরায় ভেঙ্গে যায় বলে দাবী স্থানীয়দের। স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর মিয়া বলেন- বাঁধ সংস্কার কাজে কোন গতি ছিল না। নদীর কাছ থেকেই বালু ফেলে তারা বাঁধ সংস্কার করছিল। যে কারণে বাঁধটি দুর্বল হয়ে পানির চাপে আবারো ভেঙে গেছে। মইনুল মিয়া বলেন- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারির অভাব ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির মাশুল আমাদের দিতে হচ্ছে। আব্দুল হক নামে অপর আরেক ব্যক্তি বলেন, মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে বাঁধটি আবারও ভেঙ্গে গেল। গত বন্যায় কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছিল সেটি তারা এখনো পুষিতে উঠতে পারেননি।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, আমরা বাঁধ পরিদর্শন করেছি। ভারতের ত্রিপুরায় প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে উচ্চবেগে পানি প্রবেশ করেছে। যার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই খোয়াই নদীতে পানি চলে আসায় বাধঁটি ভেঙ্গে গেছে। পানি কমলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হবে’।
বাঁধ মেরামতে অনিয়ম ও কাজে ধীরগতির অভিযোগ রয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের জানামতে এখন পর্যন্ত কোন অনিয়ম হয়নি। আমরা বাঁধ মেরামতের কাজ দ্রুত সময়ে করার চেষ্টা করেছি। প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল।